কবরের পাশে লাগানো ফুলগাছ চুরি, দেড় হাজার গাছ রোপণে অনন্য দৃষ্টান্ত তরুণের
সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬ ৫:১১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় প্রিয়জনের কবরের পাশে লাগানো ফুলগাছ চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক তরুণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিশোধ বা ক্ষোভ প্রকাশের বদলে তিনি পুরো গ্রামজুড়ে হাজারের বেশি ফুলগাছ রোপণ করে এলাকায় সবুজায়নের নজির গড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের হাওলাদার শামীম আহমেদ তার প্রয়াত দাদি ও বাবার কবরের পাশে শখ করে হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী গাছ রোপণ করেছিলেন। যত্নে গাছগুলো বড় হয়ে ফুলও ফুটতে শুরু করে। কিন্তু এক সকালে কবরস্থানে গিয়ে তিনি দেখেন, লাগানো তিনটি ফুলগাছই উপড়ে নিয়ে গেছে অজ্ঞাত কেউ।
প্রিয়জনের স্মৃতিবিজড়িত গাছ হারিয়ে গভীরভাবে ব্যথিত হলেও কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেননি শামীম। বরং তিনি ভিন্নভাবে ভাবতে শুরু করেন এবং সিদ্ধান্ত নেন, শুধু কয়েকটি নয়—পুরো এলাকাকেই ফুলে ভরিয়ে তোলা হবে।
এরপর নিজের অর্থায়নে ও উদ্যোগে তিনি শ্রমিক নিয়োগ করে গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে এবং ৫০০টি বাড়ির সামনে মোট প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ফুলগাছ রোপণ করেন। এসব গাছের মধ্যে রয়েছে সেই একই প্রজাতির হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী।
দিনব্যাপী বাড়ি বাড়ি ঘুরে গাছ লাগানোর পাশাপাশি তিনি স্থানীয়দের নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানান। তার এই উদ্যোগে এলাকাজুড়ে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, একটি চুরির ঘটনার জবাবে ক্ষোভ নয়, বরং পুরো গ্রামকে সৌন্দর্য ও সুবাসে ভরিয়ে দেওয়ার এমন উদ্যোগ সত্যিই বিরল। কয়েক মাসের মধ্যেই এসব গাছে ফুল ফুটলে পুরো এলাকা মনোরম পরিবেশে রূপ নেবে বলে তারা আশা করছেন।
শামীম আহমেদ বলেন, তিনি চোরকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেননি। বরং তার ধারণা, গাছগুলো হয়তো কোনো ফুলপ্রেমীর কাছেই গেছে। এই ভাবনা থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন পুরো এলাকাজুড়ে ফুলগাছ লাগানোর। তার লক্ষ্য কেবল একটি ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়, বরং গ্রামকে সবুজ ও সুন্দর করে তোলা এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃতভাবে গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া।
স্থানীয়দের মধ্যে অনেকে এই উদ্যোগকে তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নেতিবাচক ঘটনার এমন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সমাজে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, উদ্যোগটি প্রশংসনীয় হলেও বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কতটা টেকসই হবে তা ভবিষ্যতে বোঝা যাবে।
১৪১ বার পড়া হয়েছে