বরগুনায় নারী ও দুই কন্যার মরদেহ উদ্ধার: সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ
বৃহস্পতিবার , ৪ জুন, ২০২৬ ১:১৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলা থেকে এক নারী ও তার দুই কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ডাকবাংলোর দুটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে বরগুনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা ও সাধারণ মানুষ। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবি জানান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত স্মৃতি রানী (ইতি রানী নামেও পরিচিত) জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বুধবার বিকেলে ডাকবাংলোর অন্যান্য কর্মচারীরা পাশাপাশি দুটি কক্ষে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে বরগুনা থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতার কথা জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঘটনার পর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ইব্রাহিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের নির্দেশনা দেন।
বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা বরগুনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, ঘটনাটির পেছনে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে এবং তারা নিরপেক্ষ তদন্ত চান।
নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস দাবি করেন, তার স্ত্রী আত্মহত্যা করতে পারেন না এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানান।
এদিকে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি বা চিকিৎসা সংক্রান্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলীম বলেন, “তিনটি মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ঘটনার কারণ উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।”
উল্লেখ্য, নিহতরা হলেন বরগুনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী ইতি রানী (৩৪) এবং তাদের দুই কন্যা আরাধা বিশ্বাস (১২) ও আরাধ্য বিশ্বাস (৪)।
২০৬ বার পড়া হয়েছে