রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু, যেকোনো দিন রায়ের তারিখ ঘোষণা
বৃহস্পতিবার , ৪ জুন, ২০২৬ ৬:৫০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় বিচারিক কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে।
ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, দুপুরের আগে বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়।
এর আগে সকালে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও সহ-আসামি স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বুধবার মামলার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, যুক্তিতর্ক শেষে যেকোনো দিন রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে।
আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে বিচারক মামলার সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ এবং বিভিন্ন আলামতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আসামিদের সামনে উপস্থাপন করেন। এতে শিশুটিকে খোঁজার ঘটনা, সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, আলামত উদ্ধার এবং মরদেহ উদ্ধারের বিষয়গুলো উঠে আসে।
শুনানির সময় প্রধান আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পরে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে সহ-আসামি স্বপ্না আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু জানান, আদালতে আসামির দেওয়া বক্তব্য মামলার নথিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মামলার তদন্ত ও পূর্ববর্তী জবানবন্দিতে নতুন করে উল্লেখ করা কিছু তথ্যের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে আদালত যে রায় দেবেন, তা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে।
মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নিহত শিশুর পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তদন্তকালে জব্দ করা বিভিন্ন আলামতও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
মামলায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যা ও যৌন সহিংসতার অভিযোগ এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
১৬৩ বার পড়া হয়েছে