দেশের ৪১ জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত, শুক্রবার থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬ ৬:৩৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের ৪১টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষভাগে এসে তীব্র রোদ, গরম বাতাস এবং উচ্চ আর্দ্রতার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে কৃষি শ্রমিক, রিকশাচালক, নির্মাণ শ্রমিক ও খোলা আকাশের নিচে কর্মরত মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগের আটটি, রংপুর বিভাগের আটটি এবং খুলনা বিভাগের ১০টি জেলাও তাপপ্রবাহের আওতায় ছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারও দেশের অধিকাংশ এলাকায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে শুক্রবার থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়লে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি ছিল। সকাল থেকেই তীব্র রোদ ও ভ্যাপসা গরমে নগরবাসী চরম অস্বস্তির মধ্যে দিন কাটিয়েছেন।
দুপুরের পর রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। অনেক রিকশাচালক, ফুটপাতের ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিককে ছায়াময় স্থানে বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে।
দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে, যেখানে পারদ উঠেছে ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় ৩৮ ডিগ্রি এবং নাটোরের লালপুর ও ঈশ্বরদী অঞ্চলে ৩৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাতাসে আর্দ্রতার ওঠানামার কারণে ভ্যাপসা গরম আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। ফলে শ্রমজীবী মানুষ এবং বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিন মাসে দেশজুড়ে ৮ থেকে ১০টি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে শুধু জুন মাসেই তিন থেকে চারটি তাপপ্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে চলতি মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। যদিও একাধিক লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, শুধু এল নিনো নয়, জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ণ, সবুজায়ন কমে যাওয়া এবং বায়ুদূষণের মতো বিভিন্ন কারণ মিলেই দেশের তাপমাত্রা বাড়ছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০ সালের পর থেকে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানী ঢাকা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আরও দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে।
চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, তাপপ্রবাহের কারণে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য তাপজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তারা দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এছাড়া বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি বা সানগ্লাস ব্যবহার, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান, ডাবের পানি ও লেবুর শরবত গ্রহণ এবং শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে জুনজুড়ে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি পুরোপুরি কাটবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১৭৭ বার পড়া হয়েছে