স্বামীর মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স চালকসহ স্ত্রীর মৃত্যু
বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬ ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করা এক ব্যক্তির মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী ও অ্যাম্বুলেন্স চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ছেলেসহ পরিবারের আরও পাঁচ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (৩ জুন) সকাল ৮টার দিকে যশোর-নড়াইল-ঢাকা মহাসড়কের নড়াইল সদর উপজেলার পূর্ব বালিয়াডাঙ্গা এলাকার বাদশার গ্যারেজ সংলগ্ন স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের মাহিদিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহানারা বেগম (৫৫) এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক আকবর হোসেন (৩৫)। এর আগে একই দিন ভোরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ইসমাইল হোসেন মোল্যা (৬৫) ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, ইসমাইল হোসেন মোল্যা দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। তার ছেলে উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের ঢাকায় কর্মরত থাকায় বাবাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করান। বুধবার ভোরে ইসমাইল মোল্যা মারা গেলে তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়ি যশোরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
পথিমধ্যে নড়াইল সদর উপজেলার পূর্ব বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই জাহানারা বেগম নিহত হন। আহত অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স চালক আকবর হোসেনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত ইসমাইল মোল্যার ছেলে এসআই আবু তাহের, আনোয়ার হোসেন লিটন, সেলিম হোসেনসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য আহত হন। তাদের নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু জানান, দুর্ঘটনার পর মরদেহ দুটি জেলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অ্যাম্বুলেন্স জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। তাদের কান্নায় হাসপাতাল এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনরা জানান, কয়েক বছর আগে একই পরিবারের আরেক সন্তানও ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনায় পরিবারটি গভীর শোকের মধ্যে পড়েছে।
১৪৬ বার পড়া হয়েছে