কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে জেলা প্রশাসনের দেওয়া সব ব্যবসায়িক কার্ড বাতিল, নতুন অনুমতিও বন্ধ
বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬ ৫:০৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অস্থায়ীভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের দেওয়া সব অনুমতিপত্র (কার্ড) বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন কোনো কার্ড ইস্যু কিংবা বিদ্যমান কার্ড নবায়নও করা হবে না বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সৈকতের বিভিন্ন এলাকায় বালিয়াড়ি দখল করে বিপুল সংখ্যক দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে, যা পরিবেশ ও পর্যটন ব্যবস্থাপনার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ১২ মার্চ জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী সুগন্ধা পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯৩০টি দোকান ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। ওই অভিযান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর পরিচালিত হয়েছিল।
তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে উচ্ছেদ হওয়া এলাকাগুলোর কিছু অংশে আবারও দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ দাবি করছেন, তারা জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
সুগন্ধা পয়েন্টে সরেজমিনে দেখা গেছে, পূর্বে উচ্ছেদ করা কিছু এলাকায় পুনরায় দোকান স্থাপন করা হয়েছে। এসব দোকানে পোশাক, আচার, চকলেট, শামুক-ঝিনুক, চা ও অন্যান্য পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বালিয়াড়ি ও ঝাউবাগান এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত স্থাপনা নির্মাণ সৈকতের পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য হুমকি হতে পারে।
অন্যদিকে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর সৈকতে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ ফিরে এসেছিল। পুনরায় স্থাপনা নির্মাণের ফলে পর্যটকদের অভিজ্ঞতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও আদালতের নির্দেশনা অনুসারে পূর্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। বর্তমানে উচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি রিট মামলার বিষয়ে আদালতের কাছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অস্থায়ী ব্যবসা পরিচালনার জন্য দেওয়া সব কার্ড বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন কার্ড ইস্যু ও নবায়ন কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হবে। অনুমতিপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে বালিয়াড়িতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৬৪ বার পড়া হয়েছে