বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা: নরসিংদীতে উদ্বোধন হলো ‘বাংলার ঈগল’ ম্যুরাল
বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬ ২:২০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নরসিংদীর রায়পুরায় মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নবনির্মিত ‘বাংলার ঈগল’ ম্যুরাল উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদ নামাপাড়া এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ম্যুরালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল। সভাপতিত্ব করেন ইসরাত জাহান কেয়া। এ সময় মো. আবদুল্লাহ আল-ফারুক, মো. মাসুদ রানা, মুনমুন পাল, বায়েজিদ বিন মনসুরসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, পূর্বের নকশা ও স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে ‘বাংলার ঈগল’ ম্যুরালটি আরও বৃহৎ ও নান্দনিকভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন ম্যুরালের উচ্চতা ৩১ ফুট এবং প্রস্থ ২২ ফুট, যা আগের কাঠামোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বড়।
তিনি বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কারণে গত ২০ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট পরিবারের সম্মতিক্রমে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ভাস্কর্যটি সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নতুন পরিসরে আরও উন্নত নকশায় স্মারকটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের অন্যতম। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মাতৃভূমির স্বাধীনতার লক্ষ্যে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি থেকে একটি যুদ্ধবিমান নিয়ে সাহসী অভিযানে অংশ নেন তিনি। সেই অভিযানে বিমান দুর্ঘটনায় শহীদ হন এই বীর সেনানী। তাঁর অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সামরিক বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করে।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রাম বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জন্মস্থান। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ২০০৮ সালে সেখানে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। একইসঙ্গে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে নির্মিত হয় ‘বাংলার ঈগল’ স্মারক।
ত্রিমুখী কালো পাথরে নির্মিত স্মারকটিতে এক পাশে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের প্রতিকৃতি, অন্য পাশে তাঁর জীবনবৃত্তান্ত। কেন্দ্রীয় অংশে টেরাকোটার মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঐতিহাসিক দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। স্মারকের সর্বোচ্চ স্থানে স্থাপিত যুদ্ধবিমানের ভাস্কর্যটি তাঁর আকাশজয়ী সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
স্থানীয় প্রশাসনের মতে, ‘বাংলার ঈগল’ শুধু একটি ম্যুরাল নয়; এটি মহান মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ এবং জাতীয় গৌরবের এক অনন্য প্রতীক। নতুন প্রজন্মের কাছে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের বীরত্বগাথা পৌঁছে দিতে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত রাখতে এই স্মারক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
২৪৫ বার পড়া হয়েছে