সিরাজগঞ্জে কথিত ‘জিনের বাদশা’ গ্রেপ্তার
মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬ ১০:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
অনলাইন বিনিয়োগের নামে বিপুল মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. আব্দুল হামিদ (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তিনি সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার বনবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পুলিশ জানায়, গত ১ জুন মোছা. মমতাজ বেগম (৩১) সদর থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত আব্দুল হামিদ বিভিন্ন অনলাইন বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে অর্থ বিনিয়োগ করলে উচ্চ মুনাফা পাওয়া যাবে বলে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতেন।
তদন্তে জানা গেছে, প্রথমে তিনি ‘ইকো ভোল্ট’ নামে একটি অনলাইন সোলার প্যানেল বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রায় ১১ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। পরে ‘সিইএফ’ নামে আরেকটি অ্যাপে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে আরও প্রায় ৬ লাখ টাকা নেন। পরবর্তীতে আগের অ্যাপগুলো অকার্যকর হয়ে গেলে নতুন প্ল্যাটফর্মের কথা বলে আরও প্রায় ৪ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন।
সব মিলিয়ে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতুর নির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সলঙ্গা উপজেলার বনবাড়িয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ট্যাবলেট, একটি স্মার্টফোন এবং বিভিন্ন প্রচারসামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, তিনি নিয়মিত নতুন নতুন অনলাইন অ্যাপ চালুর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতেন। কিছুদিন পর অ্যাপগুলো বন্ধ হয়ে গেলে নতুন অ্যাপের মাধ্যমে আবারও বিনিয়োগের আহ্বান জানাতেন।
এছাড়া টাকা ফেরত চাইলে ‘Hamkail Moakael’ নামের একটি টেলিগ্রাম আইডি ব্যবহার করে নিজেকে শত শত বছরের পুরোনো ‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দিতেন এবং ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার বাদী মমতাজ বেগম জানান, তার নেতৃত্বাধীন একটি দলের প্রায় ১০০ সদস্য এসব অ্যাপে বিনিয়োগ করেছিলেন। পরে অ্যাপগুলো অচল হয়ে গেলে প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয় এবং তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি একাধিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। পাশাপাশি ভুয়া পরিচয়ে নিজেকে ‘জিনের বাদশা’ দাবি করে মানুষকে ভয় দেখানোর তথ্যও পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিকে শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
১৬৭ বার পড়া হয়েছে