সর্বশেষ

সারাদেশ

গজারিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩

মুহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না, মুন্সীগঞ্জ
মুহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না, মুন্সীগঞ্জ

মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬ ৩:৫৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চর বলাকী গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১ জুন) দুপুরে সংঘটিত এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় বিএনপির একটি কার্যালয়সহ কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহতরা হলেন মুসা (৭০), সুমন (৩৫) ও জিকু (২৮)। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত সুমন ও জিকুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থক মুসা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থক শহর আলীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার দুপুরে স্থানীয় ঈদগাহ এলাকায় দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক উপজেলা যুবলীগ নেতা নাজমুল ইসলামের অনুসারী এবং বিএনপি সমর্থক যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন প্রধানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় হোসেন্দী ইউনিয়ন বিএনপির ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়সহ অন্তত পাঁচটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার বিষয়ে মুসা দাবি করেন, পূর্বের একটি মারধরের ঘটনার মীমাংসা নিয়ে শহর আলীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়।

যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন প্রধান অভিযোগ করেন, যুবলীগ নেতা নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকশ লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে তাদের দলীয় কার্যালয় ও একাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নাজমুল ইসলাম বলেন, আনোয়ার হোসেনের অনুসারীরাই আগে তাকে ধাওয়া ও হামলার চেষ্টা করে। ভাঙচুরের অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, এটি রাজনৈতিক নয়, বরং ব্যক্তিগত বিরোধের ফল।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একটি বাড়িতে হামলা চালাতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত বিরোধ রয়েছে। অতীতেও একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ঘটনায় বাড়িঘর ও একটি কার্যালয়ে ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ও ৫ এপ্রিল একই গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন আহত হন এবং বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

১৭৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন