সর্বশেষ

সারাদেশ

কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন এনসিপির দুই নেতা

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা

রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬ ২:৫৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুমিল্লা জেলা পরিষদের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার এক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। তবে অভিযোগের জবাবে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা বিভ্রান্তিকর এবং প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

শনিবার কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কুমিল্লা জেলা পরিষদের অর্থ থেকে আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা এবং হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনাকে ‘সমন্বয়ের রাজনীতির ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রশাসকের ওই বক্তব্যের ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বিতর্কের জেরে শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে বক্তব্য দেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল এবং উন্নয়ন প্রকল্পের বিশেষ বরাদ্দের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে দেশের বিভিন্ন উপজেলার জন্য বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লার মুরাদনগর ও দেবিদ্বার উপজেলাও বরাদ্দ পেয়েছে। এসব অর্থ জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “কোন অর্থ এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) এবং কোনটি জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব—সেটা আগে বুঝতে হবে। যে বরাদ্দের কথা বলা হচ্ছে, তা মন্ত্রণালয় থেকে উন্নয়ন কাজের জন্য দেওয়া হয়েছে এবং তার সমস্ত নথিপত্র জেলা পরিষদের কাছেই সংরক্ষিত রয়েছে।”

‘১০ কোটি নয়, ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল’—হাসনাত
অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহও নিজের ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে অভিযোগের ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যে ১০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি তথ্যগতভাবে ভুল।

হাসনাতের ভাষ্য অনুযায়ী, দেবিদ্বার উপজেলার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের এডিপি প্রকল্পের আওতায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। জেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও এই অর্থ জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিলের অংশ ছিল না।

তিনি বলেন, “বক্তব্যটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন আমরা ব্যক্তিগতভাবে টাকা গ্রহণ করেছি। অথচ বাস্তবে এই অর্থ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে। ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সঙ্গে অর্থ গ্রহণের কোনো সম্পর্ক নেই।”

হাসনাত দাবি করেন, বরাদ্দকৃত অর্থ মোট ৪২টি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে এবং এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ব্যয়ের প্রতিটি হিসাব সরকারি নথিতে সংরক্ষিত রয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলের অর্থ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দকে এক করে দেখানো হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

তার মতে, প্রতি বছরই বিভিন্ন উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। দেবিদ্বারের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়ায় অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয় হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, রাজস্ব খাতের অর্থ হিসেবে বিষয়টি উপস্থাপন করে জনমনে ভুল ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্যের মাধ্যমে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং পরবর্তী ব্যাখ্যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ, জেলা পরিষদের ভূমিকা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় এমন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘোষণা আসেনি। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল, এডিপি বরাদ্দ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হলে বিতর্কের অবসান ঘটতে পারে।

এদিকে অভিযোগ ও পাল্টা ব্যাখ্যার ঘটনায় কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক বিতর্ক, যেখানে একপক্ষ প্রশাসকের বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, অন্যপক্ষ অর্থ বরাদ্দের পুরো প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছভাবে তুলে ধরার দাবি জানাচ্ছে।

২১৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন