২০২০ সালের পর হামের টিকা না দেওয়ায় প্রাদুর্ভাব বেড়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬ ২:১৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ২০২০ সালের পর থেকে দেশে নিয়মিত হামের টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় হঠাৎ করে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদেশি দাতা সংস্থার কাছ থেকে টিকা সংগ্রহ না করে বেসরকারিভাবে টিকা কিনতে চেয়েছিল। তবে লাভ-লোকসানের সমঝোতা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত টিকা কেনা হয়নি।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় অসহায় মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে দ্রুত টিকার ব্যবস্থা করে টিকাদান কার্যক্রম চালু করেছে। এর ফলে বর্তমানে হামের পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি আরও উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। দেশের হাসপাতালগুলোতে এক লাখ স্যালাইন সরবরাহ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতকে আরও গতিশীল করতে বড় বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজার নারী স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা বিএনপির সহসভাপতি সরদার তোফাজ্জল হোসেন লিয়াকত, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজিব মিয়া, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর বাদশা, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবদুল হান্নান এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগসহ স্থানীয় নেতারা।
এর আগে দুপুরে বেলাবো উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার কুইক রেন্টালের নামে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থপাচার করেছে। বর্তমান সরকার এসব কার্যক্রম বন্ধ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি জানান, সরকার সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশকে বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
বেলাবো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজ সারতাজ জায়েদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহসান হাবিব বিপ্লব, বেলাবো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আমানুল্লাহসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।
দিনব্যাপী সফরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনোহরদী ও বেলাবো উপজেলার দুই শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।
১৫৩ বার পড়া হয়েছে