গোপালগঞ্জের কামারপল্লীতে কর্মব্যস্ততা, বেড়েছে ছুরি-চাপাতির চাহিদা
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জের কামার শিল্পীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ছুরি, চাপাতি, দা, বটি ও অন্যান্য ধারালো সরঞ্জাম তৈরিতে দিনরাত কাজ করছেন তারা।
সারা বছর কাজের চাপ কম থাকলেও ঈদের এই কয়েক দিনেই তাদের কর্মব্যস্ততা ও আয় দুটোই বেড়ে যায়।
জেলা শহরের পাঁচুড়িয়া এলাকার কামারপল্লীতে দেখা যায়, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়ছে। হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। জেলার বিভিন্ন স্থানে কয়েক হাজার গরু কোরবানি হবে বলে আগাম অর্ডার দিচ্ছেন ক্রেতারা।
কামাররা জানান, এ বছর লোহা ও কয়লার দাম বেড়েছে। গত বছর যেখানে লোহা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় কেনা যেত, এবার তা ১১০ থেকে ১২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। একইভাবে কয়লার দামও ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দামও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে চামড়া ছাড়ানোর ছুরি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকায়, দা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়, বটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় এবং পশু জবাইয়ের ছুরি ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা জানান, ঈদকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে তারা কামারপল্লীতে আসছেন। যদিও এবছর দাম কিছুটা বেশি, তবে সময়মতো পণ্য পেয়ে যাবেন বলে আশা করছেন তারা।
কামার কানাই কর্মকার বলেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ক্রেতাদের চাপ ততই বাড়ছে। অর্ডার অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হচ্ছে, ফলে ব্যস্ততা অনেক বেশি।
অন্যদিকে খোকন কর্মকার জানান, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে, তাই আগের তুলনায় কিছুটা বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে ঈদকে ঘিরে বিক্রি ভালো হওয়ায় তারা কিছুটা স্বস্তিতে আছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারা বছর কাজ কম থাকলেও কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কামারশিল্পীদের জীবিকা ও আয় অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে ওঠে।
১৫৭ বার পড়া হয়েছে