সর্বশেষ

জাতীয়

ঈদবাজারে মন্দাভাব, ফুটপাতেই বেশি ক্রেতার ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬ ৭:৫০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
আর মাত্র এক দিন পর পবিত্র কোরবানির ঈদ। কিন্তু রাজধানীর মার্কেটপাড়াগুলো ঘুরে তেমন উৎসবমুখর পরিবেশ চোখে পড়ছে না।

বিপণিবিতানগুলোতে পোশাক, জুতা, পাঞ্জাবি, প্রসাধনী ও অলংকারের পসরা সাজিয়ে বসে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার দেখা পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। অনেক বিক্রয়কর্মীকেও অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। তবে ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেছে ফুটপাতের ভাসমান দোকানগুলোতে, যেখানে তুলনামূলক বেশি ভিড় করছেন ক্রেতারা।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত শুক্র ও শনিবার তুলনামূলক ভালো বিক্রি হলেও অন্যান্য দিনে বেচাকেনা খুবই কম। ঈদকে সামনে রেখে বাড়তি বিনিয়োগ করেও প্রত্যাশিত ব্যবসা না হওয়ায় হতাশ তারা। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিকে “মন্দের ভালো” হিসেবে দেখছেন অনেকে।

রাজধানীর গুলিস্তানের অন্যতম পাইকারি পোশাক মার্কেট ঢাকা ট্রেড সেন্টারেও এবার নেই ঈদ মৌসুমের স্বাভাবিক ব্যস্ততা। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গত দুই বছর ধরেই ব্যবসায় ভাটা চলছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে থেকে অর্ডার কমে যাওয়ায় বিক্রি কমেছে।

পাইকারি ব্যবসায়ী মো. দুলাল হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে ঋণ করে বাড়তি বিনিয়োগ করলেও এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক বিক্রিও হয়নি। আগে কোরবানির ঈদে দৈনিক ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও এবার ২০ হাজার টাকাও বিক্রি হচ্ছে না। তার মতে, মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষ এখন পোশাক কেনায় খরচ কমিয়ে দিয়েছে।

আরেক ব্যবসায়ী মো. বিল্লাল হোসেন জানান, সাধারণত এপ্রিল থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে অর্ডার আসতে শুরু করে। কিন্তু এবার মে মাসের শেষ দিকে এসেও অর্ডার কম। কাপড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দামও বেড়েছে, ফলে চাহিদা কমে গেছে।

পাইকারি বাজারে গেঞ্জি ১৮০ থেকে ৫০০ টাকা, শার্ট ২৫০ থেকে ১ হাজার টাকা, জিন্স ও গ্যাবার্ডিন প্যান্ট ৪০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং শিশুদের পোশাক ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকাতেও দেখা গেছে একই চিত্র। মার্কেটগুলোতে সাধারণ দিনের মতোই চলছে কেনাবেচা। ক্রেতাদের বেশি ভিড় দেখা গেছে পোশাক ও জুতার দোকানগুলোতে।

নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী মো. হিরণ বলেন, আগের বছরের তুলনায় এবার ব্যবসা অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে। আগে যেখানে দিনে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার বিক্রি হতো, এখন সেখানে ২০ হাজার টাকাও হচ্ছে না। তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যবসা অনেকটাই শুক্রবারনির্ভর হয়ে পড়েছে।

শোয়াইব ফেব্রিক্সের ব্যবসায়ী মো. আজিম মাতবর বলেন, ঈদের আগে শার্ট-প্যান্ট তৈরির যে ব্যস্ততা থাকার কথা, এবার তা নেই। বাড়তি চাহিদাও দেখা যাচ্ছে না।

তবে ফুটপাতের ভাসমান দোকানগুলোতে তুলনামূলক বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিক্রি কিছুটা বাড়লেও প্রত্যাশা অনুযায়ী নয়।

ফুটপাতের দোকানি মো. জহির হোসাইন জানান, শুক্রবার ভালো বিক্রি হলেও পরবর্তী দিনগুলোতে বেচাকেনা কমে গেছে। বর্তমানে টু-পিস ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা, জিন্স প্যান্ট ৪০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং পালাজো ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

টি-শার্ট বিক্রেতা মো. সামির মোহাম্মদ বলেন, এবার ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে জার্সির চাহিদা বেড়েছে, ফলে সাধারণ টি-শার্টের বিক্রি কমেছে। পাশের আরেক দোকানি মো. ইমাম হাসান জানান, দৈনিক ১৫ থেকে ২০টি জার্সি বিক্রি হচ্ছে, যার দাম ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা।

জুতার বিক্রেতা মো. সজিব কাজী বলেন, ঈদবাজার এবার খুবই মন্দা। তবে শুক্র ও শনিবার তুলনামূলক ভালো বিক্রি হয়েছে। অন্যদিনগুলোতে গড়ে ১২ থেকে ১৫ জোড়া জুতা বিক্রি হচ্ছে।

বায়তুল মোকাররম এলাকায় আতর, টুপি ও জায়নামাজ বিক্রি করা ভাসমান ব্যবসায়ী মো. হাফিজ উদ দৌলা বলেন, গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে অনেকে এসব পণ্য কিনে নিচ্ছেন। তবে কম দামের পণ্যের প্রতিই ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি থাকায় লাভ কমে গেছে।

এদিকে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতির চাপ থাকলেও এবারের কোরবানির ঈদে সারা দেশে পোশাক, জুতা, কসমেটিকস ও ফ্যাশন খাতে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ কোটি টাকার বাণিজ্য হতে পারে।

সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ বলেন, দেশের মোট ঈদ বাণিজ্যের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ লেনদেন ঢাকা মহানগরকেন্দ্রিক। তাদের ধারণা, এবার ঢাকায় পোশাক ও ফ্যাশন খাতে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা, খাদ্য ও রেস্টুরেন্ট খাতে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিবহন, কুরিয়ার ও ই-কমার্স খাতে ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হতে পারে। এছাড়া কোরবানির সরঞ্জামের বাজারেও ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে।

১৫৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন