টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে নিহত ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬ ১২:০৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ব্যস্ততার মধ্যেই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় রক্তাক্ত হলো ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শনিবার ভোরে যমুনা সেতু পূর্বপাড়ের গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের সরাতৈল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ার সময় দ্রুতগতির ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের লেনে উল্টে পড়ে। এতে ট্রাকভর্তি রড ছিটকে পড়ে যাত্রীদের ওপর। মুহূর্তেই ঘটনাস্থলজুড়ে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে রড সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে। আহতদের টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন— সাগর মিয়া (২০), রবিউল ইসলাম (২৫), ইসমাইল হোসেন (১৯), নজরুল (৬০), মামুন (৪৫), সারিকুল (২৫), বারিক (২১), বাদশা (৩২), গিয়াস (২০), মাইনুল (২৮), ইয়াকুব (২০) ও তারেক (২০)। তাদের অধিকাংশের বাড়ি নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। তারা নোয়াখালী ও ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় হকার ও দিনমজুরের কাজ করতেন। নিহত ও আহতদের মধ্যে আরও সাতজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান জানান, ঈদে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহীগামী রডবোঝাই ট্রাকে করে তারা যাত্রা শুরু করেন। ফেনীর স্টারলাইন পেট্রোলপাম্প এলাকা থেকে জনপ্রতি ৩৫০ টাকা ভাড়ায় ট্রাকটিতে ওঠেন তারা। দীর্ঘ যাত্রাপথে রাতের শেষভাগে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ভোর ৫টার দিকে কালিহাতীর সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে রডের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়।
এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আতাউর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও চলছে।
একদিকে ঈদের আনন্দ, অন্যদিকে স্বজন হারানোর আহাজারি— এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফেরা মানুষগুলোর যাত্রা শেষ হলো মহাসড়কের রক্তাক্ত প্রান্তরে।
১০৪ বার পড়া হয়েছে