সর্বশেষ

সারাদেশ

অযত্ন আর অবহেলায় ময়মনসিংহের ত্রিশালের কবি নজরুল স্মৃতি কেন্দ্র, সংস্কারের দাবি

আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ 
আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ 

সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬ ৫:৪২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর স্মৃতি জড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক স্থানগুলো আজও যথাযথ সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। জন্মবার্ষিকী এলেই আলোচনায় আসলেও বছরের অধিকাংশ সময়ই এসব স্থাপনা থাকে অবহেলিত।

আজ ২৫ মে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ত্রিশালের বিভিন্ন নজরুল-স্মৃতিবিজড়িত স্থান আবারও আলোচনায় এসেছে। ইতিহাস বলছে, কিশোর বয়সে নজরুলকে আসানসোলের একটি রুটির দোকান থেকে রফিজউল্লাহ দারোগা ময়মনসিংহের ত্রিশালে নিয়ে আসেন এবং পরে তিনি স্থানীয় বিভিন্ন স্থানে থেকে পড়াশোনা করেন।

ত্রিশালের কাজী শিমলা ও নামাপাড়ার বিচুতিয়া বেপারীর বাড়ি—এই দুইটি স্থানেই নজরুলের স্মৃতিচিহ্ন জড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের মতে, দরিরামপুর হাই স্কুলে পড়াশোনার সময় প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হতো কিশোর নজরুলকে। সেই ইতিহাসের স্মৃতি ধরে রাখতে ২০০৮ সালে এসব এলাকায় “কবি নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র” নির্মাণ করা হয়।

স্মৃতিকেন্দ্রে কবির ব্যবহৃত কিছু জিনিসপত্র, পুরোনো গ্রামোফোন, কাঠের খাট এবং হাতে লেখা কবিতা সংরক্ষিত থাকলেও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিতে সেগুলো ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় বংশধরদের দাবি, স্মৃতি সংরক্ষণে তাদের পূর্বপুরুষরা ভূমি দিলেও যথাযথ সরকারি সহযোগিতা ও যোগাযোগ পাওয়া যায় না। পাশাপাশি দারোগা ও বিচুতিয়া বেপারীর নাম ইতিহাসে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু জন্মবার্ষিকী বা বিশেষ দিনে কিছু আয়োজন হলেও বছরের বাকি সময় স্মৃতিকেন্দ্রটি প্রায় দর্শনার্থীশূন্য থাকে। এর সঙ্গে রয়েছে দুর্বল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, যা বর্ষাকালে যাতায়াতকে আরও কঠিন করে তোলে। পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তা না থাকায় সন্ধ্যার পর এলাকা প্রায় অন্ধকার ও নির্জন হয়ে পড়ে।

তবে স্মৃতিকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখানে নিয়মিতভাবে কবির সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে এবং দেশ-বিদেশের গবেষকরাও মাঝে মাঝে ভ্রমণ করেন। ভবিষ্যতে কেন্দ্রটিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জাতীয় কবির ঐতিহ্য কেবল স্মরণীয় দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হোক, যাতে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস ও সাহিত্যচর্চার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে পারে।

১১৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন