তামাবিলে বিকাশে টাকা দিলে ঘরে পৌঁছে যায় ইয়াবা, সীমান্তজুড়ে সোহেল চক্রের দাপটের অভিযোগ
মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬ ৩:১০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের সীমান্তবর্তী তামাবিল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যেও সক্রিয় রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ ইয়াবা ব্যবসায়ী চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল গ্রামের বাসিন্দা সোহেল আহমেদ (২৫) এই চক্রের অন্যতম মূল সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন এবং তার নেতৃত্বেই সীমান্ত এলাকায় ইয়াবার অবাধ বাণিজ্য চলছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকাশে টাকা পাঠানোর পর নির্দিষ্ট ঠিকানায় সহজেই ইয়াবা পৌঁছে দেওয়া হয়। এমনকি বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে একজন প্রতিবেদক নিজেই বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করে ইয়াবা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এতে সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার ও বিক্রির নেটওয়ার্ক কতটা শক্তিশালী, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সোহেল আহমেদ শুধু সীমান্ত দিয়ে মাদক আনার সঙ্গে জড়িত নন, বরং ক্রেতাদের কাছে সরাসরি ‘হোম ডেলিভারি’ ব্যবস্থার মাধ্যমেও ইয়াবা সরবরাহ করছেন। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের আগে অভিযুক্ত সোহেলের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সাংবাদিককে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দেখিয়ে ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, মোশাররফ, শাহাবুদ্দিন, হারুন, আল আমিনসহ শতাধিক ডিলার মাঠপর্যায়ে এই চক্রের হয়ে কাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একাধিক অডিও রেকর্ড ও তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানা গেছে।
মাদক আনার কৌশল নিয়ে জানতে চাইলে সোহেল আহমেদ কথিতভাবে বলেন, “তামাবিল স্থলবন্দরে যদি একটি গাড়িও ঢোকে, সেই গাড়িতেই আমার মাল আসে।” এই বক্তব্য সীমান্তপথে সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেটের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, তামাবিল স্থলবন্দর ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান ও নজরদারি জোরদার না করলে মাদক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
১২০ বার পড়া হয়েছে