সিরাজগঞ্জে শিক্ষার্থীকে গুলি, মেডিকেল কলেজের প্রভাষকের ২১ বছরের কারাদণ্ড
মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬ ৪:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিরাজগঞ্জের বহুল আলোচিত শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালকে গুলি করার ঘটনায় শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডা. রায়হান শরীফকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. ইকবাল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত অবৈধভাবে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিন রাখার অপরাধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় ১৪ বছর এবং ১৯(এফ) ধারায় আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ডা. রায়হান শরীফ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের স্টেনোগ্রাফার।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ মার্চ বিকেলে মেডিকেল কলেজের একটি শ্রেণিকক্ষে মৌখিক পরীক্ষা চলাকালে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করেন ডা. রায়হান। ঘটনার পর পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, ৮১ রাউন্ড গুলি, দুটি বিদেশি ছোরা এবং ১০টি বার্মিজ চাকুসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল্লাহ আল-আমিন হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করেন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে আসামির উপস্থিতিতেই আদালত এ রায় দেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক উল্লেখ করেন, একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হয়েও ডা. রায়হান বেআইনিভাবে বিপুল অস্ত্র বহন করতেন এবং কর্মস্থলে সেগুলো নিয়ে আসতেন, যা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।
বিচারক আরও বলেন, শিক্ষক হিসেবে তিনি রক্ষকের দায়িত্বে থাকলেও নিরীহ শিক্ষার্থীর ওপর গুলি চালিয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সশস্ত্র ক্যাডার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও সেই প্রবণতা বজায় রেখেছিলেন।
১৭২ বার পড়া হয়েছে