বাবা দিবস, মা দিবস ও বৃদ্ধাশ্রম
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬ ৬:৫৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বর্তমানে পৃথিবীব্যাপী দিবস পালনের ছড়াছড়ি। কত কি দিবস তার ইয়াত্তা নেই। আমরাও ঘটা করে এসব দিবস পালন করি। দিবসের ভিড়ে রয়েছে বাবা দিবস ও মা দিবস। এই দুটি দিবসে প্রাণভরে মন উজাড় করে প্রকাশ করি পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি। করি স্মৃতিচারন। এ দুটি দিবসে প্রকাশিত হয় গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ। টিভিতে প্রচারিত হয় টকশোসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান। কোথাও কোথাও পুরস্কৃত করা হয় পিতা-মাতাকে। চলতে থাকে পিতা-মাতাকে নিয়ে সন্তানের বন্দনা।
আবার এই আমরা সন্তানরাই পিতা-মাতাকে প্রেরণ করি বৃদ্ধাশ্রমে। কি দ্বিমূখী রুপ আমরাদের! বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে যদি বৃদ্ধাশ্রমেই গিয়ে থাকতে হয় তাহলে সন্তান হিসেবে আমাদের দায়িত্বটা কি? সন্তান থাকতে পিতা-মাতা বৃদ্ধাশ্রমে যাবেনই বা কেন? সন্তান কি এতই ব্যস্ত যে, বৃদ্ধ
পিতা-মাতাকে দেখার ফুসরত তাদের নেই? এ কোন মানসিকতা আমরা অর্জন করেছি?
কোন পিতা-মাতা কি সন্তান ছাড়া থাকতে চান? কখনই চান না। আমরা তো টিভিতে বৃদ্ধাশ্রমে বসবাসরত বৃদ্ধ পিতা-মাতাদের সচিত্র প্রতিবেদন দেখি। সে কি বুকফাটা
আর্তনাদ, হাহাকার! এর জবাব কি? জবাব একটাই। সন্তানদেরকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করা। পিতা-মাতাকে আগলে রাখা। আমরা সন্তানরা মানসিকভাবে অসভ্য অমানবিক হয়ে পড়েছি বিধায় আজ বৃদ্ধাশ্রম তৈরি হয়েছে। তাই দরকার সন্তানদেরকে মানবিক ও মানসিকভাবে সভ্য হওয়া।
রাষ্ট্র কর্তৃক আইন তৈরি হয়েছে যে, কর্মক্ষম সন্তানকে তার বৃদ্ধ পিতা-মাতার ভরণপোষণ করতে হবে। সন্তান অমানবিক হয়ে পড়েছে বিধায় রাষ্ট্র কর্তৃক এ ধরণের আইন তৈরি করতে বাধ্য হয়েছে। সন্তান তো নৈতিক মানবিক দৃষ্টিতেই তার বৃদ্ধ পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করবে। এটা তার দায়িত্ব ও কর্তব্য। এর জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক আইন তৈরির প্রয়োজন ছিল না। রাষ্ট্র আইন তৈরি করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ, সন্তান তার পিতা-মাতার ভরণপোষণের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না। চরম অমানবিক হয়ে পাঠিয়ে দেয় বৃদ্ধাশ্রমে।
বৃদ্ধাশ্রম অমানবিক বিবেকহীন সমাজের কলঙ্ক বা প্রতিচ্ছবি, যা প্রতিনিয়ত চপ্টাঘাত করছে সমাজকে। এই কলঙ্ক থেকে মুক্ত হওয়াটা অতীব জরুরী। সমাজে সন্তান হিসেবে আমরা সেদিনই কলঙ্কমুক্ত হবো যেদিন দেখা যাবে বৃদ্ধাশ্রমে থাকার মত কোন বৃদ্ধ পিতা-মাতা নেই। আর না থাকার কারণে সেগুলো বন্ধ হয়ে পড়েছে। এমন চিত্রই হোক সকলের প্রত্যাশা।
লেখক : ইমতিয়াজ আহমেদ, সমাজকর্মী ও সভাপতি, সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘ, ময়মনসিংহ।
১২৯ বার পড়া হয়েছে