মোংলায় মাদক বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় কৃষকদল নেতাকে মারধর
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬ ৬:৫৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মোংলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নে মাদক বিক্রির প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মোংলা পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আল আমিন মোল্ল্যা (৩০)-কে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এবং জড়িতদের বিচার দাবিতে মোংলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আল আমিন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ দিগরাজ বালুর মাঠ এলাকার একটি মাদকচক্র দীর্ঘদিন ধরে আল আমিনকে ইয়াবা বিক্রির জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। তবে তিনি তাদের এ অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হয়ে প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত বাদল, তার ছেলে রনি এবং তাদের সহযোগীরা জাকিরের দোকানে চা পানরত অবস্থায় আল আমিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত আল আমিন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মোংলা থানায় অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তিনি জানান, বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তবে অভিযোগ জমা দেওয়ার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও অজানা কারণে পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মোংলা থানার এসআই নুরুল আমিন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি ফোন করে জানিয়েছিলেন, তারা বসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেবেন। কিন্তু এতদিনেও সমাধান না হওয়ায় আজই উভয় পক্ষকে থানায় ডাকার ব্যবস্থা করা হবে।”
অভিযুক্ত বাদল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আল আমিন আমার পরিচিত। আমার বিরুদ্ধে সে যে অভিযোগ করেছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এমন অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তার কাছে আমি ৫০০ টাকা পেতাম। সে ২০০ টাকা দিয়েছিল, বাকি টাকা চাইতে গেলে আমাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। মোবাইল টানাটানির সময় ঘটনাটি ঘটে। আমি তাকে মারধর করিনি।”
এ বিষয়ে মোংলা-রামপাল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ দেওয়ার পর এত দীর্ঘ সময় কালক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে অভিযোগটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদকের বিষয়ে কোনো আপস নেই। পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”
২৮৩ বার পড়া হয়েছে