১০ বছরের জুনায়েদের পরিবারের পাশে প্রশাসন, শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্যোগ
রবিবার, ৩ মে, ২০২৬ ৪:৫৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের গড়ুরা মিস্ত্রিপাড়া গ্রামে অসহায় এক শিশুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে মাত্র ১০ বছর বয়সী শিশু জুনায়েদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার ঘটনা প্রকাশের পর সরাসরি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ।
রোববার বিভিন্ন গণমাধ্যমে পরিবারটির মানবিক সংকট নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিকেল ৫টার দিকে ইউএনও সেখানে পৌঁছে পরিবারের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল, ডালসহ শুকনো খাবার প্রদান করেন।
পরিদর্শনে ইউএনও পরিবারের তিন শিশুর—জুনায়েদ (১০), তার বড় ভাই হাসান আলী (১২) ও ছোট বোন উম্মে হাবিবা (৫)—সুরক্ষিত ভবিষ্যতের জন্য সরকারি শিশু পরিবারে নেওয়ার পরামর্শ দেন, যাতে তারা নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায় এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মার্চে অসুস্থ বাবার চিকিৎসার জন্য রাখা অর্থ নিয়ে তিন সন্তানকে ফেলে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে চলে যান মা রোজিনা খাতুন। এরপর চিকিৎসার অভাবে এবং মানসিক ভেঙে পড়ায় ঈদুল ফিতরের দিন মৃত্যুবরণ করেন বাবা হাবিবুর রহমান।
এরপর পরিবারটির দায়িত্ব এসে পড়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জুনায়েদের ওপর। সংসারে রয়েছে অসুস্থ দাদা-দাদি, শারীরিকভাবে দুর্বল বড় ভাই ও ছোট বোন। জীবিকার তাগিদে বাবার রেখে যাওয়া ভ্যান চালিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছে সে। প্রতিদিন ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলছে খাবার ও চিকিৎসার খরচ। ফলে তার লেখাপড়া কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় ১ নম্বর প্রাগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুনায়েদ জানায়, বাবার ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই পরিবারের খরচ চালাতে হয়। মা চলে যাওয়ার পর বাবা মারা যাওয়ায় এখন দেখার কেউ নেই।
এ বিষয়ে ইউএনও অনিন্দ্য গুহ বলেন, শিশুটিকে ভ্যান চালানো থেকে বিরত রাখতে তা ভাড়ায় চালানোর ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিন শিশুকে সরকারি শিশু পরিবারে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সম্মতি মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১১৭ বার পড়া হয়েছে