সর্বশেষ

জাতীয়

এবার দুদকের মামলায় এনবিআর কর্মকর্তা আবু মাহমুদ ফয়সাল

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শনিবার, ২ মে, ২০২৬ ৮:০১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ার অভিযোগে এনবিআরের অতিরিক্ত কর কমিশনার কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অবৈধ আয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন, নিকটাত্মীয়দের নামে প্লট-ফ্ল্যাট ক্রয়, ব্যাংক হিসাব ও এফডিআরের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন একসময়ের যুগ্ম কর কমিশনার এবং বর্তমানে বগুড়ার অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল। দুদকের অনুসন্ধানে তার নিজ নামে এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ প্রায় ১৭ কোটি ২১ লাখ ৯৪ হাজার ৩১৮ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব সম্পদ গোপন, নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা আড়াল করতে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব খুলে সন্দেহজনক লেনদেন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় দুদকের উপপরিচালক শেখ গোলাম মাওলা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তা এবং তার ১৪ জন স্বজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির নামে এসব সম্পদ পাওয়া গেছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল, তার স্ত্রী আফসানা জেসমিন, শ্যালক আফতাব আলী, শাশুড়ি মমতাজ বেগম, শ্বশুর আহম্মেদ আলী, ভাই কাজী খালিদ হাসান, মামা শ্বশুর শেখ নাসির উদ্দিন, খালা শাশুড়ি মাহমুদা হাসান, শ্যালিকা ফারহানা আফরোজ, খালা রওশন আরা খাতুন, খন্দকার হাফিজুর রহমান, বোন ফারহানা আক্তার, মা কারিমা খাতুন এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজী নূর-ই-আলম ছিদ্দিকীসহ আরও কয়েকজন।

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ জন আসামি এসব অবৈধ সম্পদ গ্রহণ ও দখলে রেখে সহযোগিতা করেছেন এবং তিনজন বিভিন্ন ব্যাংকে হিসাব খুলে সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ে সহায়তা করেছেন।


দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের নামে ও তার পরিবারের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা অঞ্চলের সম্পদ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন দমন কামতা মৌজায় ৬ কাঠার ১/৭ অংশ জমি (দলিল নং-৩৭৫২)
গুতিয়াব মৌজায় ০.০৩ একর জমি (দলিল নং-১১৬৫৭)
হারারবাড়ি মৌজায় ৩৩৪.৪৫ বর্গমিটার জমি (দলিল নং-৬৬৯৫)
ঢাকার খিলগাঁও থানাধীন নন্দিপাড়া মৌজায় ০.২৭ একর জমির ১/৬০ অংশ (দলিল নং-৮৯৭১)
ভাটারা থানার বড় কাঁঠালদিয়া মৌজায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ৫ কাঠার প্লট (দলিল নং-৯২৩১ ও ১০৮৭৫), যা নিজের ও স্ত্রীর নামে ক্রয় করা হয়েছে
স্ত্রীর নামে সম্পদ
একই এলাকায় স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে ৫ কাঠার একটি প্লট, যার দলিল মূল্য ১৮ লাখ টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত মূল্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকা বলে জানা যায়
পূর্বাচল ও আফতাবনগর
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সেক্টর-২১-এ ২০০.১৭ বর্গমিটার একটি প্লট
শাশুড়ি মমতাজ বেগমের নামে আফতাবনগর হাউজিং প্রকল্পে ১০ কাঠার প্লট, যার দলিল মূল্য ৫২ লাখ টাকা হলেও প্রকৃত মূল্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বলে বিক্রেতা নিশ্চিত করেছেন
ফ্ল্যাট
শ্বশুর আহম্মেদ আলীর নামে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী রোডে ২৯৯০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, সঙ্গে ২৩৮ বর্গফুট পার্কিং স্পেসসহ মোট ৩২২৮ বর্গফুট সম্পত্তি
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিজ নামে ৪টি প্লট, স্ত্রীর নামে ২টি প্লট, যৌথ নামে ১টি প্লট, শাশুড়ির নামে ১টি প্লট এবং শ্বশুরের নামে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তার পরিবারের নামে মোট ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে।

প্রধান হিসাবগুলো হল- কাজী ফয়সাল: ৫০ লাখ টাকা, স্ত্রী আফসানা জেসমিন: ৫০ লাখ টাকা, শ্যালক আফতাব আলী: ৩০ লাখ টাকা, ভাই কাজী খালিদ হাসান: ৩০ লাখ টাকা, শ্বশুর আহম্মেদ আলী: ৫০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য আত্মীয়দের নামে ৯৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র।

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে: ৮৫ লাখ ৯৬ হাজার ৯১৯ টাকা, শ্যালক আফতাব আলী: ৪০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৫০ টাকা
শ্বশুর আহম্মেদ আলী: ৪৪ লাখ ১৩ হাজার ১৪৩ টাকা।মোট শেয়ার বিনিয়োগের পরিমাণ ১ কোটি ৭০ লাখ ৪৬ হাজার ৭১২ টাকা।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ৬ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার ৯০৮ টাকা।

সব মিলিয়ে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮০ টাকা।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী স্থাবর সম্পদ: ৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা, অস্থাবর সম্পদ: ১১ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮০ টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণ: ১৮ কোটি ১৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮০ টাকা।

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল তার অবৈধ আয়ের উৎস গোপন করতে একটি জটিল আর্থিক কাঠামো তৈরি করেন। তিনি স্ত্রী, মা, ভাই, বোন, শ্বশুর-শাশুড়ি, শ্যালকসহ ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের নামে সম্পদ ক্রয় ও ব্যাংক হিসাব খুলে অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
 

১২৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন