বৃষ্টির সাথে কী হয়েছে কেউ জানেনা, শুধু পেয়েছে মৃত্যুর খবর
রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১:১০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাদারীপুরের মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এরই মধ্যে ফোনে মৃত্যুর খবর পাওয়ার দাবি করেছে পরিবার, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে বৃষ্টি জীবিত না মৃত—এ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।
জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা বৃষ্টি উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় সাত মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে যান। এর আগে তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। তার বাবা জহির উদ্দিন আকন্দ চাকরির কারণে ঢাকায় বসবাস করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল সকালে সর্বশেষ পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন বৃষ্টি। এরপর থেকেই তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে জানা যায়, ১৭ এপ্রিল থেকে বৃষ্টি ও তার সহপাঠী লিমন নিখোঁজ রয়েছেন। বিষয়টি জানার পর থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নেওয়া হলেও কোনো তথ্য পায়নি পরিবার।
২৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ এক সংবাদ সম্মেলনে লিমনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানায় এবং হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেফতারের তথ্য দেয়। তবে একই ঘটনায় নিখোঁজ বৃষ্টির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য দেয়নি তারা।
বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন্দ জানান, “১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত কথা হয়েছে। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ। হঠাৎ ২৫ এপ্রিল কেউ একজন আমেরিকার পুলিশ পরিচয়ে ফোন করে জানায়, আমার মেয়ে মারা গেছে। তবে আমরা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাইনি।” তিনি সরকারের কাছে মেয়ের প্রকৃত অবস্থান জানানো এবং মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হলে মরদেহ দেশে আনার দাবি জানান।
গ্রামে থাকা বৃষ্টির চাচা দানিয়াল আকন্দের অভিযোগ, “আমার ভাতিজিকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।” একইসঙ্গে বৃষ্টির চাচাতো বোন তুলি আকন্দ বলেন, “সে মেধাবী ছাত্রী ছিল, স্কলারশিপ নিয়ে আমেরিকায় গিয়েছিল। কেন তাকে এমন পরিণতি ভোগ করতে হলো, আমরা জানতে চাই।”
এদিকে বৃষ্টির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় তার গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসীর মধ্যেও উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় দ্রুত বৃষ্টির প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার ও স্থানীয়রা।
১৩১ বার পড়া হয়েছে