সর্বশেষ

সারাদেশ

টিফিনের টাকায় ‘থান্ডারবোল্ট’—বরিশালের দুই শিক্ষার্থীর রকেট প্রকল্প ঘিরে আলোচনা

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:২৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রাম। চারপাশে সবুজ ধানক্ষেত আর টিনের ঘেরা ঘর। বিকেল নামলেই গ্রামজুড়ে নেমে আসে এক ধরনের শান্ত নীরবতা। তবে সেই নীরবতার মধ্যেই একটি ঘরের ভেতর চলছে ব্যতিক্রমী এক ব্যস্ততা—তার, সার্কিট আর নকশায় গড়ে উঠছে ভবিষ্যতের এক স্বপ্ন।

এই গ্রামেই দুই তরুণ শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন রকেট–মিসাইল ধাঁচের একটি পরীক্ষামূলক মডেল, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘থান্ডারবোল্ট’। তাদের দাবি, জিপিএস প্রযুক্তির সহায়তায় এটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হতে সক্ষম। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার এবং কার্যক্ষম পরিসীমা প্রায় পাঁচ কিলোমিটার।

তবে প্রকল্পটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। আকাশে উড়িয়ে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করা হয়নি।

টিফিনের টাকা জমিয়ে তৈরি প্রযুক্তি
এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সুজন চন্দ্র পাল এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিতম পাল। তারা সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে।

শৈশব থেকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ তাদের। স্কুলজীবন থেকেই বিভিন্ন বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা ও প্রজেক্টে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয় রোবটিক্স ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতি ঝোঁক। সেই ধারাবাহিকতারই একটি বড় উদ্যোগ ‘থান্ডারবোল্ট’।

প্রকল্পটির জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন বা বড় ল্যাব সুবিধা ছিল না। নিজেদের সঞ্চয়, টিফিনের টাকা এবং পারিবারিক সহায়তা মিলিয়ে প্রায় সাত লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে এই মডেল।

প্রিতম পাল জানান, রোবটিক্স দিয়ে শুরু হলেও রকেট প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই এই প্রকল্পের ধারণা আসে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেও তারা অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।

কী আছে ‘থান্ডারবোল্ট’-এ
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি গাইডেড রকেট–মিসাইল প্রোটোটাইপ, যা জিপিএস সিস্টেমের মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর দিকে পরিচালিত হতে পারে।

তবে বাস্তব পরীক্ষা এখনো করা হয়নি। আকাশে উড্ডয়নের জন্য প্রয়োজন সরকারি অনুমোদন, যা এখনো পাওয়া যায়নি। আকাশসীমা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।

সুজন চন্দ্র পাল বলেন, এটি মূলত একটি ডেমো প্রজেক্ট। গাইডেন্স সিস্টেম যুক্ত হলে নির্দিষ্ট টার্গেটের দিকে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও বাস্তবতার প্রশ্ন
এই প্রকল্প ঘিরে যেমন আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তেমনি উঠেছে নানা প্রশ্নও। সীমিত সম্পদ ও স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি এমন একটি উচ্চগতির যন্ত্র কতটা কার্যকর ও নিরাপদ—তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রকেট বা মিসাইল প্রযুক্তি অত্যন্ত জটিল এবং কঠোর নিয়ন্ত্রিত একটি ক্ষেত্র। এর প্রতিটি ধাপে উন্নত গবেষণা, পরীক্ষা ও অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।

তাই অনেকেই একে এখনই ‘লার্নিং প্রোটোটাইপ’ হিসেবে দেখছেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপক বলেন, শিক্ষার্থীদের এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ছাড়া এর পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন কঠিন।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষকও জানান, শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী, তবে বড় পরিসরে কাজ করতে হলে আরও ল্যাব সুবিধা ও গবেষণা সহায়তা প্রয়োজন।

স্বপ্নের পথে তরুণেরা
গ্রামের ছোট একটি ঘরে বসে তৈরি এই প্রকল্প এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। যদিও এর বাস্তব প্রয়োগ এখনো অনিশ্চিত, তবু দুই তরুণের এই উদ্যোগ নতুন করে ভাবাচ্ছে—সীমিত সুযোগেও তরুণরা কত দূর যেতে পারে।

মামা-ভাগ্নের একটাই লক্ষ্য, দেশের জন্য কিছু করা। তাদের মতে, সঠিক সুযোগ ও সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু সম্ভব।

তাদের এই স্বপ্ন আপাতত পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও, এটি ইতোমধ্যেই নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তার একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

১২৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন