নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩
বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১:৪০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই শিশুসহ একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় নিহত হাবিবুর রহমানের দুই ভাগনে ও এক ভগ্নিপতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন—নিহতের বোন শিরিন আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম (৩০), তার ছেলে শাহিন হোসেন এবং অপর বোনের ছেলে সবুজ রানা (২০)। তাদের সবার বাড়ি নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিন তার ১৭ বিঘা জমির মধ্যে বসতবাড়িসহ ১৩ বিঘা ছেলে হাবিবুর রহমানের নামে লিখে দেন। বাকি জমি মেয়েদের মধ্যে বণ্টন করেন। এতে হাবিবুর বেশি সম্পত্তি পাওয়ায় তার বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগনেদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
এই বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম, তার ছেলে শাহিন এবং ভাগনে সবুজ রানা হাবিবুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার (২১ এপ্রিল) রাতে তারা হাবিবুরের বাড়িতে যায়। প্রথমে তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খায়। পরে গভীর রাতে ঘরের দরজা খুলে অন্য সহযোগীদের নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে।
পুলিশ জানায়, তারা প্রথমে হাবিবুরের বাবাকে একটি ঘরে আটকে রাখে। এরপর ঘুমন্ত অবস্থায় হাবিবুর রহমানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ সময় তার স্ত্রী পপি সুলতানা বাইরে বের হলে তাকেও কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে তাদের দুই সন্তান পারভেজ রহমান (৯) ও সাদিয়া আক্তারকেও হত্যা করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে সবুজ রানা হত্যার দায় স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি খড়ের পালা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত হাসুয়া এবং একটি পুকুর থেকে ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছে, হাবিবুর রহমানের পুরো পরিবারকে হত্যা করলে তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়া যাবে—এই উদ্দেশ্যেই তারা এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
ঘটনার পর নিহতের বাবা ও দুই বোনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূ পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে নিয়ামতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং গ্রাম্য কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে