চট্টগ্রাম বন্দরে ১ লাখ ৭৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ৫ জাহাজ, খালাস শুরু
বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
চট্টগ্রাম বন্দরে এক লাখ ৭৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে পাঁচটি জাহাজ নোঙর করেছে। এসব জাহাজ থেকে জ্বালানি তেল খালাসের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রিফায়েত হামিম জানান, বুধবার দুপুরে ‘এমটি প্যাসিফিক ইন্ডিগো’ নামের একটি জাহাজ জ্বালানি তেল খালাসের জন্য বন্দরের ডলফিন জেটিতে বার্থিং নেয়।
এর আগে, ৩৫ হাজার ৩৪৬ টন ডিজেল নিয়ে আসা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি অকট্রি’ খালাস শেষে আজই (বুধবার) বন্দর জেটি ত্যাগ করবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
বিপিসি সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল ৪১ হাজার ৯০৭ টন ডিজেল নিয়ে আসা চীনের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি লিয়ান সং হো’ বর্তমানে বন্দরের আলফা অ্যাংকরে অবস্থান করছে। জাহাজটি থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে তেল খালাস করা হচ্ছে।
এছাড়া, ২০ এপ্রিল ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ‘এমটি প্যাসিফিক ইন্ডিগো’, ১৯ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে ৩৫ হাজার ২৮ টন ডিজেল নিয়ে ‘এমটি গোল্ডেন হরাইজন’, ২১ এপ্রিল ৩২ হাজার ৫০০ টন ডিজেল নিয়ে ‘এমটি হাফনিয়া চিত্তা’ এবং সিঙ্গাপুর থেকে ৩৪ হাজার ৫৩৩ টন ডিজেল নিয়ে ‘এমটি এফপিএমসি ৩০’ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।
অন্যদিকে, চীন থেকে ৩৪ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘এমটি জিং টং ৯৯’ নামের আরেকটি জাহাজ আগামী ২৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে, প্রায় দুই মাস পর সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে একটি জাহাজ বাংলাদেশে আসছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘এমটি নিনেমিয়া’ চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)।
বিএসসি জানায়, ইয়ানবু বন্দরের অবস্থান লোহিত সাগরে হওয়ায় জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালি পার হতে হবে না, ফলে যাত্রায় বড় কোনো ঝুঁকি নেই। জাহাজটি আগামী ৬ মে বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে চলমান জ্বালানি তেল সংকটের মধ্যে এই জাহাজটি আসার বিষয়টি তদারকি করছে বিএসসি। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত হলে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)-এর উৎপাদন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের চালান আসেনি। ফলে বিদ্যমান মজুদ দিয়ে সীমিত আকারে পরিশোধন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ইআরএল।
১২০ বার পড়া হয়েছে