নজরুল-মানস: স্বাদেশিকতা থেকে বিশ্ব-মানবতায়
বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ৯:১৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
উচ্ছল প্রাণের মর্মমূলে ব্যথার আগুন জ্বালিয়েছেন নজরুল। দুঃখ ছিলো তাঁর পথিক ভাই।' ফুলের বনে নয়, বেদনার গোরস্তানেই নজরুল সত্তার উন্মেষ ঘটেছিলো। তিনি তাঁর জীবন-জ্বালাকে বিরাট প্রাণের প্রাচুর্যে আচ্ছন্ন করে রাখতেন।
আর এই জ্বালাই তাঁর প্রাণের মহাশক্তির উৎস। তাই চির- দারিদ্র্যই হয়েছে তাঁর চির- হিতাকাঙ্ক্ষী। তাঁর জীবনের ভুজংগরা হলোঃ চির-দারিদ্র্যের অভিশাপ, অনন্ত বিরহের যন্ত্রণা আর ব্যর্থ প্রেমের জ্বালা।
বিদ্রোহী বাংলার হাজার বছরের দুঃসহ বেদনা, সঞ্চিত ক্রোধ আর সঞ্চিত অভিমান নজরুলের কবিতায় দাবানল হয়ে জ্বলে উঠলো। তাঁর কবিতায় সম্বিত ফিরে পেলো বাংলা ভাষা-ভাষী মানুষ, শুনতে পেলো অস্থির হৃদয়ের মহা কল্লোল আর ক্ষুব্ধ প্রাণের মর্মর। 'বিদ্রোহী' কবিতা বাংলা কবিতার কন্ঠস্বর দিলো পাল্টে। অদম্য পৌরুষ চেতনা সঞ্চারিত হলো বাংলা কবিতায়, নতুন রক্ত সঞ্চালিত হলো বাংলা কবিতায়। সমালোচকের ভাষায়- ‘ওটাতো কবিতা নয়-ওটা আগুনের গোল্লা- পরাধীন মানুষের অন্তর্বেদনার এক জ্বলন্ত প্রকাশ।' [লক্ষণ কুমার, বিদ্রোহী কবি নজরুল]।
স্বাভাবিক ভাবেই অবন্ধনপ্রিয় ও গতিবাদী জীবনের মোহন রণবেশ নজরুলের অঙ্গে রক্তখচিত হয়েছে। বীরের বজ্র-হুঙ্কার হয়েছে পথে চলার মধুর আহ্বান মন্ত্র। বাঙালীর ভীরুতা অপবাদ অপনোদন করেছেন নজরুল। তিনি মনের চারদিকে কোনো দেয়াল রচনা করেননি। যা গ্রহণযোগ্য ভেবেছেন, তা-ই গ্রহণ করেছেন। উৎসের কথা ভাবেননি। তাঁর বিদ্রোহী সত্তার মতোই তিনি ছিলেন তাঁর যাপিত জীবনে, সাহিত্যে, সামাজিক অঙ্গীকার ও প্রত্যয়ে। নজরুল নিজের সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেনঃ "আমি চিনেছি আমারে, আজিকে আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ।” তাঁর এই বন্ধনহীন কবিসত্তা সর্বকালে ও সর্বদেশে তাই পরবর্তীকালে ছায়া ফেলেছে। তিনি তাই হতে পেরেছেন বহুতল- অধিকারী কবি। আর এজন্যে তিনি অভিজ্ঞতার অকপট প্রকাশ ঘটাতে পেরেছেন কবিতায়। উল্লেখিত বহুতলে স্থান পেয়েছেঃ ব্যক্তি, সমাজ, দেশ-কালের পাশাপাশি সব দেশ ও মহাকাল, জাতীয়তা ও আন্তর্জাতিকতা প্রসঙ্গ।
অবিরাম স্বতঃস্ফূর্ততাই নজরুলকে চড়াগলার কবি বানিয়েছে। আর এই স্বতঃস্ফূর্ততাই তাঁর কাব্যিক পুঁজি। শোষণ-নিপীড়ন- নির্যাতন ও দারিদ্র্যের গ্লানি তাঁকে ক্ষুব্ধ ও 'বিদ্রোহী' করে তুলেছিলো। সঙ্গত কারণেই কবিতার নামে নিদানিক শীতলতা ও সংযম প্রদর্শন তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাঁর কবিতার মূল উৎস ও অনুপ্রেরণা অখণ্ড মানবচিন্তা। মানুষকে তিনি খণ্ডিত করে দেখেননি। সমাজ ও মানব-দর্শনের যে পরিচয় নজরুল তাঁর কবিতায় রেখেছেন, তাকে আন্তর্জাতিক সাম্যবাদ বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। তাঁর অখন্ড মানবচিন্তায় শ্রেণী, জাতি বিভক্ত হয়ে ধরা দেয়নি। 'বিংশ শতাব্দী' কবিতায় নজরুল তাই উচ্চারণ করেনঃ
'পূর্বে, পশ্চিমে, উত্তরে, দক্ষিণে
য়ুরোপ, রাশিয়া, আরব, মিসর, চীনে,
আমরা আজিকে এক প্রাণ এক দেহ
এক বাণী-'কারো অধীন র'ব না কেহ।'
শ্রমিক-কৃষক-মেহনতী জনতার একনায়কত্ব চেয়েছেন নজরুল। এক্ষেত্রে তিনি দেশ ও জাতির বিভক্তি-চিহ্ন ভুলে গিয়ে ছিলেন। শোষিত মানুষের যন্ত্রণা ও বঞ্চনা তাঁকে উপহার দিয়েছে প্রত্যয়মণ্ডিত কণ্ঠ-
১) 'তোমার দেওয়া এ বিপুল পৃথ্বী সকলে করিব ভোগ, এই পৃথিবীর নাড়ীর সাথে আছে সৃজন-দিনের যোগ।' [ফরিয়াদ]
২) ‘আমি বিশ্ব-তোরণে বৈজয়ন্তী মানব-বিজয়-কেতন।' [ 'বিদ্রোহী', অগ্নিবীনা]
নজরুলের 'বিদ্রোহী'ও বিরাট, সারা বিশ্বে যার ব্যাপ্তি। 'বিদ্রোহী' তাঁর নিজস্ব চালিকা শক্তি। একই সঙ্গে এটি শোষিতের উত্থানের জন্যে রুদ্ধশ্বাস প্রার্থনা। নজরুলের 'বিদ্রোহী' কবিতায় 'আমি' সকল দেশের সকল মানুষের কল্যাণে ক্রিয়াশীল। এ কবিতায় যুগ ও কালচেতনার পাশাপাশি কালজয়ী চেতনা সঞ্চারিত হয়েছে। তিনি তাঁর নিজস্ব অবলোকনের মাধ্যমে মানুষ ও সমকালীন বিশ্বে তাঁর স্থানকে নিরুপিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন- আপোষহীন নিরলস, সংগ্রামের মাধ্যমেই বিশ্বমানবতার মুক্তি সাধন সম্ভব। এ কারণে তাঁর কবিতায় একজন প্রবল পুরুষের আবাহন শুনতে পাওয়া যায়-
‘ বিশ্ব-গ্রাসীর ত্রাস নাশি আজ আসবে কেবীর এসো ঝুট শাসনে করতে শাসন, শ্বাস যদি হয় শেষও!
-কে আছে বীর এসো।
আমাদের মনে রাখতে হবে যে, 'বিদ্রোহী' কবিতার মধ্য দিয়ে প্রবল পুরুষের আগমন বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। তিনি সকল দেশের, সকল মানুষের মন অধ্যয়ন করেছেন, চলেছেন সকল মানুষের মধ্যে। নজরুল দেশের মানুষকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে গোটা বিশ্বের মানুষকে ভালোবেসে ছিলেন। নেরুদা, নাজিম হিকমত, ফ্রান্জ ফ্যানন, লোরকা - তাঁরা স্বদেশপ্রেমের রাস্তা ধরেই বিশ্বের মুক্তির বাণী উচ্চারণ করেছিলেন। নজরুলের ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি।
নজরুলের বিদ্রোহের কেন্দ্রে যে চেতনা কাজ করেছে, তাকে ঘনবন্ধ রূপ দেওয়ার জন্যেই তিনি 'চির বিদ্রোহী' হয়ে উঠেছেন। 'বিদ্রোহ' নজরুলের চালিকা-শক্তি এবং নিয়ন্তা হিসেবে কাজ করেছে। এই নিয়ন্তা 'আমি' নামক প্রবল পুরুষের প্রতীকে দেবত্বের সুউচ্চ আসন যেমন পেরেছে, তেমনি মুহূর্তেই লাভ করেছে অতি জাগতিক মাত্রা। নজরুল তাই বলেনঃ
'আমি বিরাট। আমি ভূধরের ন্যায় উচ্চ সাগরের
ন্যায় গভীর, নভো-নীলিমার ন্যায় সর্বব্যাপী। চন্দ্র আমারই মৌলশোভা, আমার লালাটিকা, অরুণিমা আমার দিগন্ত সীমান্তের সিন্দুরচ্ছটা, সূর্য আমার তৃতীয় নয়ন... `
এই যে, মানুষ বা 'microcosm' ‘macrocosm'-এ ব্যাপ্তি লাভ করলো, এই যে 'আমি' সকল যুগের, সকল দেশের, সকল মানুষের প্রতিভূ হলো-এখানেই নজরুলের অখন্ড মানবচিন্তা স্ফূর্তি লাভ করে। নজরুল পরাধীন ভারতের গ্লানিকে বিশ্বের স্বাধীনতাহীন অন্যান্য জনগোষ্ঠীর গ্লানির সাথে এক করে বিবেচনায় এনেছেন। বিশ্বের সব জায়গার যুদ্ধকে তাই তিনি ঘৃণা করেছেন। নজরুলের কবিতায় যে গণমানুষের উপলব্ধির কথা আছে, তা কেবল ভারত নয়, সারা বিশ্বের নির্যাতিত মানুষ। নজরুলের এই সর্বজনীন গ্রহণ ও বৃহত্তর মানব প্রেক্ষাপটে নিজেকে উপস্থাপন - নিঃসন্দেহে অভূতপূর্ব ঘটনা। হুইটম্যানের বলিষ্ঠ, প্রত্যয়মণ্ডিত চড়া গলার বৈশিষ্ট্য, ওমর খৈয়াম বা হাফিজের প্রকাশভঙ্গি তাঁর কবিতা যে ধারণ করতে পেরেছে- এর পিছনেও কাজ করেছে বৃহত্তর গ্রহণ।
নজরুলের কবিতায় সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যে বলিষ্ঠ বাণী উচ্চারিত হয়েছে, ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে, শোষণের বিরুদ্ধে যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে, তার পিছনে নজরুলের ইংরেজের শাসক-শোষক বিরোধী মনোভাব কাজ করেছে। কারণ, বার্নাড শ'-এর মতো তিনি ও বিশ্বাস করতেনঃ 'You will never find an Englishmen in the wrong. He fights you on patriotic principles, he robes you on business principles, he bullies you on many principles; he supports his king on loyal principles and cuts off kings hand on republican principles...' [ বার্নাড শঃ 'দিস ম্যান অব ডেস্টনি, ১৯২৯]
বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হেলমুথ ফন গ্লাসেনপ নজরুল সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন:
'The Poems deserve full right the name the author has given them; they are full of emotion like fire and sweet like the tune of vina.’
নজরুলের কাব্যসাধনা বোদলেয়ার- র্যাঁবো - ইয়েটস -মার্লামে-এলিয়ট-রিলকে-উত্তর ‘correspondences-symbolism -subconscious' মন্ডিত কাব্যচর্চা নয়। নজরুলের কবিতা মৌলিক বৈশিষ্ট্যজাত মানবতাবাদী চিন্তা-চেতনার অনন্য উপস্থাপনা। তাঁর কবিতার বিরাট অংশ জুড়ে দেশ-কাল- ভৌগলিক সীমারেখা নির্বিশেষে মানুষের উপস্থিতি । নজরুল-কাব্যে যে বিদ্রোহী চেতনা সক্রিয়, তারও উৎসমূলে বিরাজ করছে মানুষ, অখণ্ড মানবচেতন্য বা ‘creative vision'-
১/ ‘আদম দাউদ ঈসা মুসা ইব্রাহিম মোহাম্মদ
কৃষ্ণ বুদ্ধ নানক কবীর,- বিশ্বের সম্পদ,
আমাদেরি এঁরা পিতামহ, এই আমাদের মাঝে
তাঁদেরি রক্ত কম-বেশি ক’রে প্রতি ধমনীতে কাজে।’ ["মানুষ": "সাম্যবাদী"]
২/ কোথা চেঙ্গিস, গজনী-মামুন, কোথায় কালাপাহাড়?
ভেঙে ফেলো ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া-দ্বার। খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা? সব দ্বার এর খোলা র'বে, চালা হাতুড়ি-শাবল চালা!’
['মানুষ': "সাম্যবাদী"]
নজরুলের বিদ্রোহের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ছিলো সম সাময়িক কালের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সামাজিক-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ। কারণ, তিনি বিশ্বাস করতেন যে, কবিতা মানব-ঐক্য ও গণ-জাগরণের শিল্প-মাধ্যম। চির অবনত মানবসত্তাকে সংঘবদ্ধ অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন নজরুল। এভাবেই নজরুল বাংলা কবিতায় বিশ্বায়ন ঘটালেন। কবিতায় তিনি সংযোজন করলেন- মানবতাবাদী চেতনার বিশ্বজনীন প্রবাহ। নজরুলের কবিতার অগ্নিগর্ভ পরিপার্শ্বের জন্যে মানবসভ্যতা যেন যুগ যুগ ধরে অপেক্ষায় ছিলো। নজরুল তাই হয়েছেন “Hegelian hero." এ প্রসঙ্গে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মন্তব্য যথার্থ-
"Nazrul Islam was an embodiment, a hypostatization of the new spirit that was abroad. His was a spirit of rebelion. He meets the Hegelian specification of a hero. of one whi was more than an artist or politician and was endowed with an ‘Insight into what is timely’ as well as the courage to act decisively on the basis of his conviction.’ The Hegelian hero knows what his age demands." [ Serajul Islam choudhury: "Nazrul Islam: poet and more’, P. 29, Nazrul Institute, Dhaka, 1994]
নজরুল এমন একজন কবি, যিনি ‘মানুষের বেদনা উপশম করার মধ্যেই খুঁজে পেয়েছেন তাঁর মৌলিক জীবন-জিজ্ঞাসা।?
'দরদ দিয়ে, সহানুভূতি দিয়ে, ভালবাসা দিয়ে অশ্রুসজল মানবতাকে তিনি সান্ত্বনা দিয়েছেন।’ [নজরুল ইসলামঃ নানা প্রসঙ্গ, মুস্তাফা নূরউল ইসলাম]
"আত্মরতির সমস্ত সম্ভাবনা সত্ত্বেও তিনি প্রবলভাবে গণমানুষের। আসলে গণ মানুষ বলে কোন মানুষকে বোঝাতে চাই আমরা? যারা আপামর মানুষ? Mass people? হ্যা, নজরুল ছিলেন এই মানুষ আর তার বিশ্বাসের ভিত্তি, তার আশ্রয়।’
নজরুলের সারল্য, সত্যপ্রিয়তা তাঁকে যেমন আত্মমহিমায় উদ্বুদ্ধ করেছে, তেমনি আবার মানুষকে উপলব্ধি করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। বঞ্চনার বেদনায় যে দ্রোহের নির্মাণ নজরুল-কাব্যে লক্ষ্য করা যায়, তা নিঃসন্দেহে বিশ্বজনীন। নজরুল জানতেন-সমাজ- বিবরে অবস্থিত প্রতিক্রিয়াশীল সকল শক্তিই দ্রোহিতার প্রতিরোধ করতে চাইবে। আর তাই ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়ায় সমাজের অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে কবিতার মাধ্যমে অব্যাহত রেখেছিলেন অভিঘাত-বিক্ষুব্ধ নিপীড়িত ও বঞ্চিতদের দ্রোহ। এ প্রসঙ্গে আমরা মনে করতে পারি-
"The spirit of Nazrul's Poetry and music from his fiery-lyre tired and the social, political and economic injustice and persecution from the human society and he had hit upon the bestiality of the people of his hurunan world and caused tobring. about peace and happiness along with harmonious socio-religio-political harmony all over the world. And as such he bent much upon the justice and equity among all the human beings irrespective of their caste and creed."
[M. Mizanur Rahman: Nazrul : The protagonist of the human identity', Nazrul Institute Journal-3, P. 52]
নজরুলের কবিতায় আমরা বিশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক মনুষ্যত্বমনস্ক সুর ও ধ্বনি-ব্যঞ্জনা মূর্ত হতে দেখি। এক্ষেত্রে সত্য ও সুন্দর তাঁর পবিত্র কণ্ঠলগ্ন ছিলো।
তিনি তাই সহজেই উচ্চারণ করতে পারেন-
'গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান;
নাই দেশকাল পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম-জাতি
সবদেশে সবকালে ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।’’
[‘মানুষ’, “সাম্যবাদী” ]
আত্মার সংশ্লেষে নজরুলের কবিতায় সুবোধ ও কান্তিময় মানসিকতা সাম্যবাদী আন্তর্জাতিক চেতনায় দ্রুত পরিব্যাপ্ত হয়েছে। নজরুলের দ্রোহ স্ফুলিঙ্গের মতো অগ্নিদৃপ্ত হওয়ার মশল্লা পেলে ভয়ানক অগ্নিকান্ডের সূচনা করতে পারে। আর তাই তাঁর দ্রোহ কার্যকর ছিলো, ‘প্রতিকারহীন শক্তের অপরাধ'-এর বিরুদ্ধে।
করুণাময় গোস্বামী বলেনঃ
"Broadly speaking, Kazi Nazrul Islam appears mostly to be committed to materializing
his dream of a better world in poems and prose writings and his fascination for beauty has got amazing expressions in hundreds of songs. Nazrul appeared on the literary scene of Bengal with a solid declaration that he possessed two things in the grip of his two hands. One was a bamboo flute, other, a war dream. This is just what he said in one of the lines of Bidrohi: The Rebel, So, as we see, even when he was writing Bidrohi which formed the prelude to his whole creative life, Nazrul did not forget to mention about the flute which in Bengal and everywhere else in the sub-continent, is a symbol of music and beauty.’
[Karunamaya Goswami: "Kazi Nazrul Islam: Poet and composer, Nazrul Institute Journal-6 P.P.46,47]
লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক।
১১৮ বার পড়া হয়েছে