সর্বশেষ

সারাদেশ

সরকারি কাজে সহযোগিতা করলেও মামলার ফাঁদে যুবদল কর্মী

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:৫৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার এক যুবদল কর্মী ফয়েজ আহমদ (৩৩) সরকারি অভিযানে সহযোগিতা করার পর প্রতিহিংসামূলক মামলার শিকার হয়ে কারাগারে আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের হিলালপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় স্যানিটারি মিস্ত্রি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফয়েজ আহমদের পরিবারে ১১ জন সদস্য রয়েছে। তার মা মৃত এবং বৃদ্ধ বাবাসহ বড় পরিবারটির দায়িত্ব মূলত ফয়েজ ও তার ভাই নুরুল ইসলাম কয়েছের ওপর নির্ভরশীল। দুই ভাইই স্যানিটারি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমির টপসয়েল কাটার অভিযোগে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। অভিযোগ ওঠে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল আহমদের নেতৃত্বে একটি চক্র এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল।

পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল মাহমুদ ফুয়াদের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ঘটনাস্থল চিহ্নিত করতে না পারায় স্থানীয়দের কাছে সহায়তা চান প্রশাসনের সদস্যরা। তখন ফয়েজ আহমদ ঘটনাস্থল দেখিয়ে দেন বলে এলাকাবাসীর দাবি। পরে সেখানে অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত এক্সকাভেটর মেশিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনকে সহযোগিতা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত চক্রটি ফয়েজ আহমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। পরবর্তীতে মোগলাবাজার থানায় এক্সকাভেটর চালক আব্দুর রাজ্জাক চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে ফয়েজকে প্রধান আসামি করা হয়।

ফয়েজের বড় ভাই নুরুল ইসলাম কয়েছ বলেন, “সরকারি কাজে সহযোগিতা করাই আমার ভাইয়ের অপরাধ হয়েছে। ভোর রাতে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। আমরা এই মামলার বিষয়ে কিছুই জানি না। পরিবার চালাতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

মোগলাবাজার থানার ওসি মো. মনির হোসেন জানান, চাঁদাবাজি ও এক্সকাভেটর ভাঙচুরের অভিযোগে ফয়েজ আহমদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের সুনির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দয়াময় দাশ প্রাথমিকভাবে তদন্তের দায়িত্বে থাকার কথা স্বীকার করলেও বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে ফুলবাড়ি ইউনিয়নের সেক্রেটারি আব্দুল আহাদ চৌধুরী বলেন, “ফয়েজ আহমদ প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছিল। প্রতিহিংসাবশত তাকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমরা তার দ্রুত মুক্তি দাবি করছি।”

স্থানীয় বাসিন্দারাও দাবি করেছেন, ফয়েজ একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ এবং তিনি সরকারি কাজে সহায়তা করেছেন বলেই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তারা তার মুক্তি ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী আব্দুর রাজ্জাকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

২৪৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন