সর্বশেষ

সারাদেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি, ৪ শিশুর মৃত্যু

আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬ ৭:৪৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ হাম উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত তিন মাসে জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

একই সময়ে ৬ শতাধিক শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে, যা স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) জেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর উপচে পড়া ভিড়। হামসহ বিভিন্ন শিশুরোগের প্রকোপ বাড়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা চাপের মধ্যে সেবা দিচ্ছেন। তবে অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন, সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তারা হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাম আক্রান্ত ৭২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ জন ছেলে ও ৩৩ জন মেয়ে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং গুরুতর অবস্থায় একজনকে রাজশাহীতে রেফার করা হয়েছে।

এদিকে, একই সময়ে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১১০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং ১৪৫ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাম ছাড়া অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ১৭০ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। রোগীর অতিরিক্ত চাপে অনেক শিশুকে শয্যার অভাবে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে আইসোলেশন ব্যবস্থা ও জনবলের ঘাটতির কারণে আক্রান্ত শিশুদের সম্পূর্ণ আলাদা রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে অন্য রোগ নিয়ে আসা শিশুরাও সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছে। তারা দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

জেলা হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক বিভাগের বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে শ্বাসকষ্ট, অক্সিজেন নির্ভরতা বা আইসোলেশন প্রয়োজন এমন রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হচ্ছে।

টিকরামপুর এলাকার বাসিন্দা মলি খাতুন জানান, তার মেয়ে কয়েকদিন আগে হামে আক্রান্ত হয়। জ্বর ও খিচুনির কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

আরেক অভিভাবক জুবায়ের বলেন, তার সন্তানকে জ্বর নিয়ে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল। বর্তমানে শিশুটি অনেকটাই সুস্থ। তিনি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতার প্রশংসা করেন।

তবে ২৫০ শয্যার হাসপাতালের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
 

১৬৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন