সর্বশেষ

সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় ফসলি জমি কেটে ইটভাটা: প্রশাসনের অভিযানেও ধরা পড়েনি চক্র

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১১:২৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে ফসলি জমি কেটে তা অবৈধভাবে ইটভাটায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

যদিও উপজেলা প্রশাসন অভিযানে মাটিকাটা কার্যক্রমের সত্যতা পেয়েছে, তাতেও কোনো ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদির আলীনগর এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে একটি মাঠে স্কেভেটর মেশিন দিয়ে প্রকাশ্যে মাটি কাটা হচ্ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় কাটা মাটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত অবৈধ স্টিয়ারিং গাড়িতে লোড করে দ্রুত স্থানান্তর করা হতো।

অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতরা স্কেভেটর ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে মাটির কাটা আলামত থাকলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্র জানায়, আব্দুল হান্নান হানুর নেতৃত্বে থানারমোড়ের জয়রামপুর এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, কাটা মাটি উপজেলার থানার মোড় এলাকায় অবস্থিত এম এম জে ব্রিকস নামের একটি ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসন পূর্বেও একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে।

ফিলিপনগর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, “স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান হানুর নেতৃত্বেই মাটি কাটা হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।”

অন্যদিকে, এম এম জে ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী মতিউর রহমান জানান, “আমার ভাটার অনুমোদন ছিল, কিন্তু তা বাতিল হয়েছে। আমি সরাসরি মাটি কিনি না; স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মাটি সরবরাহ করে। তারা মাটি কোথা থেকে আনে, সেটা আমি জানি না। সবাই যেভাবে অবৈধভাবে ইটভাটা চালাচ্ছে, আমিও সেভাবেই চালাচ্ছি।”

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, “অভিযোগ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়েছি। মাটিকাটা কার্যক্রমের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সতর্কতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, অবৈধভাবে কাটা মাটির কারণে কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে এবং পরিবেশ ও ভৌগোলিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

২৮১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন