সর্বশেষ

সারাদেশ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে অপসারণ ও দুর্নীতি অভিযোগ

লিয়াকত আলী, রংপুর
লিয়াকত আলী, রংপুর

বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১০:৩৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক রেজিস্টার অধ্যাপক ড. হারুনর রশীদ অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করেছেন।

ড. হারুনর রশীদ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় রংপুর নগরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে জানান, উপাচার্য তার বাসায় ছাত্রদল, বিএনপি পন্থি শিক্ষক ও বহিরাগতদের নিয়ে গোপন বৈঠক করে ৬ ঘণ্টার মধ্যে সিন্ডিকেট সভা আয়োজন করে তাকে রেজিস্টারের পদ থেকে অপসারণ এবং ক্যাম্পাস ত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করেছেন।

ড. হারুনর রশীদ অভিযোগ করেন, উপাচার্যের দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগে জ্বালিয়াতি এবং জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাইদ হত্যার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা অন্যতম মূল সমস্যা। তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন থাকা সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, উপাচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেন যে কয়েকজন শিক্ষক জ্বালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। ২২ জনের বেশি কর্মকর্তা হাই স্কুল (এইচএসসি) পাশ করলেও ডিগ্রি ও মাস্টার্সের ভুয়া কাগজ তৈরি করে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরী করছেন। এছাড়া, মোহাম্মদ ইউসুফ নামের একজন শিক্ষক মাত্র ২.৫ গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তাবিউর রহমান নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

ড. হারুনর রশীদ আরও বলেন, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ তাবিউর রহমানকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিতে বোর্ড গঠনসহ ৩টি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পরে ঢাকায় গোপন সভা করে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এ ধরনের অনিয়মের প্রতিবেদন তিনি উপাচার্যের কাছে উপস্থাপন করলে, উপাচার্য নিজের মতো করে নিয়োগ কমিটি গঠন করে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতির জালিয়াতি চালাচ্ছেন।

রেজিস্টার অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাইদ হত্যার ঘটনায় হেলমেটে বাহিনী ও লাঠি হাতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তার উপর হামলা চালিয়েছে। তিনি নিজে বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন, কিন্তু চার্জশিট না করার জন্য তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ২৪ জানুয়ারী উপাচার্য তার বাসায় গোপন বৈঠক করে তাকে অপসারণের পরিকল্পনা করেন। ২৫ জানুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল সংবাদ সম্মেলন করে অপসারণ দাবি করে। এরপর তার অফিসে আসা নিষিদ্ধ করা হয়, গাড়ি জব্দ করা হয় এবং ৬ ঘণ্টার নোটিশে সিন্ডিকেট সভা আহবান করে রেজিস্টারের পদ থেকে অপসারণ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তার পাশে ছিলেন জামায়াতের রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক কাজল ও অপর এক ব্যক্তি। ড. হারুনর রশীদ জানান, তারা তার বন্ধু।

ড. হারুনর রশীদ এই ঘটনাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

২২৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন