সর্বশেষ

জাতীয়

রাত পোহালেই সংসদ নির্বাচন ও গণভোট, প্রস্তুতির শেষ ধাপে দেশ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:০৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় নির্বাচনি প্রচার শেষ হওয়ার পর এখন চলছে ভোটগ্রহণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনী মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি), আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি গুছিয়ে নিচ্ছেন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একযোগে অনুষ্ঠিত হবে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। একই দিনে দুটি ভোট হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। আজ বুধবার কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ ১৯ হাজারের বেশি সদস্য মাঠে মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন দুই হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেলেও কোথাও কোথাও সহিংসতার আশঙ্কাও রয়েছে। দীর্ঘদিন পর মুক্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার প্রত্যাশায় ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের আশা, এবারের নির্বাচনে ভোটের হার ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ হতে পারে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশে এই প্রথম একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা হয়েছে। নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ২৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী, যাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন।

দলীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। দলটির শীর্ষ নেতারা নির্বাচন বর্জনের ডাক দিলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিরাপত্তার আশ্বাসে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের একটি অংশ ভোট দিতে যাবে বলে বিভিন্ন স্থান থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে, অতীতের তিনটি নির্বাচন—২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪—নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এবারের নির্বাচনী পরিবেশ তুলনামূলক ভালো বলে দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার ইসিতে এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কমিশন সন্তুষ্ট। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা না ঘটলে পরিস্থিতি আরও ভালো হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইসি জানায়, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৮৫০টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর একটি অংশ নির্বাচনে সহিংসতা ঘটানোর উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংবেদনশীল কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ন্যূনতম প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৫ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন, প্রয়োজনে এই সংখ্যা বাড়ানো হবে।

এ নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের জন্য নিবন্ধিত রয়েছেন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশীয় ও প্রায় ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। পাশাপাশি ৯ হাজার ৭০০ জনের বেশি সাংবাদিক নির্বাচন কভার করছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবার প্রথমবারের মতো ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ব্যাপকভাবে সিসিটিভি ব্যবহৃত হচ্ছে। ৯০ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় এসেছে।

ঢাকার কয়েকটি আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দুটি ব্যালট একসঙ্গে গণনা করা হবে। কেন্দ্র পর্যায়ে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর তা রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। কমিশনের আশা, অধিকাংশ আসনের ফল মধ্যরাতের মধ্যেই জানা যাবে।

সবশেষে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে নির্বাচন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

২০৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন