ফরিদপুর-২ আসনে ১১ দলীয় জোট প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৫:১০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা–সালথা) আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকালে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে ১১ দলীয় জোট।
ব্যতিক্রমী এই সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে কাফনের কাপড় পরিধান করেন।
সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আকরাম আলী ওরফে ‘ধলা হুজুর’-এর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। জোট নেতাদের বক্তব্য, এটি কোনো একক প্রার্থীর ওপর হামলা নয়; বরং নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাওলানা আকরাম আলী। তিনি বলেন, গত ৭ ফেব্রুয়ারি নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে লিফলেট বিতরণ চলাকালে সিংহপ্রতাপ বাজার এলাকায় পৌঁছালে পরিকল্পিতভাবে তাঁর গাড়িবহরে বাধা দেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রতিপক্ষের কিছু নেতাকর্মী উস্কানিমূলক স্লোগান দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয় এবং স্বাভাবিক প্রচারণা ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনী মাঠে ভয় দেখিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা চলছে এবং প্রশাসনের নীরবতা এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করছে। তাঁরা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
কাফনের কাপড় পরে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে আকরাম আলীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটি প্রতীকী প্রতিবাদ। তাঁর ভাষায়, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন তাঁদের লক্ষ্য; তবে জীবননাশের হুমকি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের বার্তা দিতেই এই কর্মসূচি।
এ সময় ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, ঘটনার দিন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরবর্তীতে এলাকায় বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সালথা থানার পরিদর্শক (ওসি) বাবলুর রহমান খান জানান, মাওলানা আকরাম আলী সিংহপ্রতাপ বাজার এলাকায় লিফলেট বিতরণ করছিলেন। বাজারসংলগ্ন বিএনপির একটি কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকায় সেখানে ধানের শীষের মিছিল বের হলে সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় আকরাম আলী সেনা ক্যাম্পে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে গাড়িতে সরাসরি হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান, যদিও সে সময় কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে উত্তেজনা ছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
২৯৯ বার পড়া হয়েছে