শীতের সবজিতে কমেছে দাম, চড়া মাছ-মাংসের বাজার
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:৪২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
শীতকালীন আগাম সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় রাজধানীর বাজারে কয়েক ধরনের সবজির দাম কমেছে। শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার মতো মৌসুমি সবজির দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। তবে টমেটো, কাঁচামরিচ, গাজর ও গোল বেগুনের দাম এখনো বেশি। অন্যদিকে মাছ-মাংসের বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। ফলে সবজিতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছ-মাংস কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
শীতের আগাম সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কমেছে কয়েক ধরনের সবজির দাম। তবে সব পণ্যের দাম এখনো ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আসেনি। মাছ-মাংসের বাজারেও আগের সপ্তাহের মতোই উচ্চমূল্য বজায় রয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর উত্তরা ও বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। আকারভেদে প্রতি পিস ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। মুলার দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা। এ ছাড়া ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। জাত ও আকারভেদে বেগুনের দাম ৪০ থেকে ৭০ টাকা হলেও গোল বেগুনের কেজি ১২০ টাকা।
অন্যদিকে টমেটো ও কাঁচামরিচের দাম কেজিপ্রতি ১২০ টাকা। গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি দরে। দেশি শসা ৮০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি। ঢ্যাঁড়শ ও কচুমুখির দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বরবটি, করলা ও কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া প্রতি পিস লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
উত্তরার আজমপুর সমবায় মার্কেটের সবজি বিক্রেতা বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এ কারণে বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে আগামী দিনগুলোতে দাম আরও কমতে পারে।
একই বাজারের আরেক বিক্রেতা সোহাগ মিয়া বলেন, শীতের সবজি আসতে শুরু করায় দাম কমেছে। তবে এখনো সব ধরনের শীতকালীন সবজি বাজারে পুরোপুরি আসেনি। সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমবে। বর্তমানে আকারভেদে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজি হিসেবে এসব সবজির দাম ৬০ টাকা।
সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছের দামে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের সপ্তাহের কাছাকাছি দামেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ মাছ।
বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ আকারভেদে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া কাতলা মাছের দাম কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা। তবে ইলিশের দাম এখনো বেশ চড়া। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। কোনো কোনো বাজারে বড় আকারের ইলিশের দাম উঠেছে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত।
মাংসের বাজারেও গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৪০ থেকে ৩৩০ টাকায়।
অন্যদিকে গরুর মাংসের কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা। এসব পণ্যের দাম আগের সপ্তাহের কাছাকাছি রয়েছে।
এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যেও নিত্যপণ্যের বাজারে মিশ্র পরিস্থিতি দেখা গেছে।
সংস্থাটির ৫ নভেম্বর প্রকাশিত খুচরা বাজারদরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, বেগুন, ফার্মের ডিম, ছোলা, সুগন্ধি পোলাও চাল ও আমদানি করা আদার দাম কমেছে।
অন্যদিকে প্যাকেট ময়দা, খোলা পাম তেল ও চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের সপ্তাহের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।
সব মিলিয়ে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ, মাংস ও বেশ কয়েকটি সবজির উচ্চমূল্য এখনো ভোগাচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।
১১২ বার পড়া হয়েছে