সেন্টমার্টিন রুটে তিন জাহাজে যাচ্ছেন ১,৫৫৪ পর্যটক
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:৫০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। আজ দ্বিতীয় দিনে এমভি বারো আউলিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ। তিনটি জাহাজে করে পর্যটকেরা দেশের সর্বদক্ষিণের এই দ্বীপে যাচ্ছেন। দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবার বেশ কিছু বিধিনিষেধও আরোপ করেছে সরকার।
চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিনে পর্যটক পরিবহনের দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচল করছে তিনটি জাহাজ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ পর্যটক নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে যাত্রা করে এমভি বারো আউলিয়া। রাতেই জাহাজটি কক্সবাজারে ফিরে আসে।
জাহাজ পরিচালনাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দিনে তিনটি জাহাজে মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন যাচ্ছেন। এর মধ্যে এমভি বারো আউলিয়ায় ৬১৯ জন, এমভি কর্ণফুলীতে ৩৮৭ জন এবং এমভি টেকনাফে ৫৪৮ জন পর্যটক রয়েছেন। দুপুরের মধ্যে তাঁদের দ্বীপে পৌঁছানোর কথা।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত অনুমোদিত তিনটি জাহাজ নিয়মিত চলাচল করবে। এসব জাহাজের সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৩০০ জন। তবে এ বছর প্রতিদিন সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক যাওয়ার অনুমতি থাকায় প্রয়োজনে জাহাজের সংখ্যা বাড়তে পারে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণের সুযোগ চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক অনুমোদন, নৌযান চলাচলের ছাড়পত্র এবং পরিবেশগত শর্ত পূরণ নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে নুনিয়ারছড়া ঘাটে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সমুদ্রপথে সেন্টমার্টিন যাওয়ার সময় পর্যটকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তাঁরা সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক আল মাহমুদ বলেন, সেন্টমার্টিন দেশের সম্পদ। দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় সেখানে ভ্রমণে যাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের ভূমিকা রাখা উচিত।
তবে জাহাজের টিকিটের দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন পর্যটক। ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, টিকিটের দাম কিছুটা বেশি মনে হয়েছে। ভ্রমণপিপাসু মানুষের সামর্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করা হলে ভালো হতো। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ভাড়া পুনর্বিবেচনা করবে বলে আশা করেন তিনি।
এবার সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটকদের জন্য কয়েকটি শর্ত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। এ ছাড়া দ্বীপে যেতে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোডযুক্ত টিকিট সংগ্রহ করতে হবে।
এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্বীপে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, তাঁদের পরিচয় ও যাতায়াতের তথ্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি থাকলেও দ্বীপের ভঙ্গুর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একাধিক বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় পর্যটকদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হয়েছে কঠোর নির্দেশনা।
নির্দেশনা অনুযায়ী, রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করা যাবে না। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচাও নিষিদ্ধ।
এ ছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ বা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, সেন্টমার্টিনের মতো ছোট ও সংবেদনশীল দ্বীপে পর্যটকের চাপ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানির ব্যবহার, জ্বালানি ও শব্দদূষণের পাশাপাশি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপরও চাপ তৈরি হয়।
তাই শুধু পর্যটক প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না, পরিবেশ সংরক্ষণে আরোপিত বিধিনিষেধ কার্যকর করা এবং নিয়মিত তদারকিও নিশ্চিত করতে হবে।
১১২ বার পড়া হয়েছে