সর্বশেষ

সারাদেশ

রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:৫৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন করে ইউরেনিয়াম জ্বালানির একটি চালান পৌঁছেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে জ্বালানিবাহী লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। এ নিয়ে চলতি দফায় মোট পাঁচটি চালান রূপপুরে পৌঁছাল। সংশ্লিষ্টদের আশা, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই কেন্দ্রটির উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি এবং প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অংশ হিসেবে এসব চালান বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট নয়টি চালানে এই জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি এবং প্রথম ইউনিটের জন্য ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি রয়েছে।

৩১ অক্টোবরের মধ্যে চারটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছিল। শুক্রবার পঞ্চম চালানটি পৌঁছানোর পর বাকি চারটি চালান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে দেশে আসার কথা রয়েছে।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে, অর্থাৎ ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে বা তার আগেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট বর্তমানে ২০ শতাংশ তাপীয় ক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। এই সক্ষমতা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছালে উৎপাদিত বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন ঘোরানো হবে। এর মাধ্যমে জেনারেটর চালু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর বিজ্ঞানীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে। প্রথম ছয় মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ কারণে এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে যাওয়ার আগে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো কারিগরি ত্রুটি কিংবা ভাল্‌ভ পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ বারবার পরীক্ষা ও মেরামত করা হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট পুরোপুরি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট সাশ্রয়ী ও কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। এতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি খাতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১১৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০