সময় থাকতে সতর্ক হোন, নইলে বিপদে পড়বেন: অলি আহমেদ
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:৫৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সরকারকে সময় থাকতে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে মনে রাখতে হবে, দিন শেষে সরকারের সব কর্মকাণ্ডের দায় তাঁর ওপরই বর্তাবে। বর্তমান সময়ে যারা তাঁর পাশে রয়েছেন, সংকট দেখা দিলে তাঁদের অনেকেই সরে যাবেন। তাই সময় থাকতে ভুল সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সরকারকে সতর্ক করে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে এখনই পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে তাঁকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
অলি আহমেদ বলেন, কয়েক মাস ধরে তাঁরা বিভিন্ন সভা-সমাবেশের মাধ্যমে সরকারকে নানা বিষয়ে সতর্ক করে আসছেন। তবে এসব উদ্যোগের পরও কার্যকর পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করার উদ্দেশ্যে।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি সরকারি দপ্তর ও পদ পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম এবং কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একটি দেশকে এগিয়ে নিতে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অপরিহার্য। ইউরোপ ও আমেরিকার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যক্তি নয়, বরং কার্যকর ব্যবস্থাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বাংলাদেশে সেই ধরনের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যালয়, জেলা পরিষদ, করপোরেশন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো দলীয় কার্যালয়ের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন কাজের দরপত্রে প্রভাব বিস্তার এবং অন্যের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অলি আহমেদ বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত দায়ভার প্রধানমন্ত্রীর ওপরই বর্তাবে। বর্তমানে যারা তাঁর সঙ্গে রয়েছেন, পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে তাঁদের অনেকেই দায়িত্ব এড়িয়ে যাবেন। তাই এখনই ভুলগুলো সংশোধন করা উচিত। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বারবার সতর্ক করা হলেও একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
বিরোধী দলের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে সঠিক পথে পরিচালিত করাই বিরোধী দলের দায়িত্ব। তবে সরকার যদি এসব পরামর্শ উপেক্ষা করে, তাহলে একসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে অলি আহমেদ বলেন, সে সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে বিএনপিকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য যোগ্য এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। দেশ ও দেশের মানুষের শান্তি নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রত্যাশা।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
১১০ বার পড়া হয়েছে