সর্বশেষ

সারাদেশ

নিষেধাজ্ঞা শেষে মেঘনায় ইলিশ শিকার, ঘাটে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য

সুখেন্দু এদবর, বরিশাল
সুখেন্দু এদবর, বরিশাল

শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:২৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। এরপরই বরিশালের মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারে নেমেছেন হাজারো জেলে। তাঁদের জালে ইলিশের পাশাপাশি ধরা পড়ছে পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এতে বরিশালের মাছঘাটগুলোতে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। তবে মাছের সরবরাহ শুরু হলেও এখনো কমেনি ইলিশের দাম।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে বরিশালের মেঘনা, কালাবদর, সুগন্ধা, সন্ধ্যা, জয়ন্তী, আড়িয়াল খাঁ ও কীর্তনখোলাসহ বিভিন্ন নদীতে মাছ ধরতে নামেন জেলেরা। শুক্রবার ভোর থেকেই মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরতে শুরু করেন তাঁরা। একের পর এক জেলে নৌকা ভিড়তে থাকে মেঘনার হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর এবং বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে।

ঘাটে নামানোর পর প্লাস্টিকের ট্রেতে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। শুরু হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম ও হাঁকডাক। অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে অনেক মাছ। এতে ব্যস্ততা বেড়েছে আড়তদার, মৎস্য ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল আটটা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে মাছের সরবরাহ ও কেনাবেচার এমন চিত্র দেখা যায়।

এদিন বেলা ১২টার দিকে ঘাটে জেলে আবুল হোসেন জানান, সাতজন মিলে মধ্যরাতে নদীতে মাছ ধরতে নেমেছিলেন। তাঁদের ধরা ইলিশ বিক্রি করেছেন মোট ১৫ হাজার টাকায়। রাতে আবার মাছ ধরতে নদীতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তবে কয়েক দিন পর ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

পোর্ট রোডের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চাহিদা বেশি থাকায় ইলিশের দাম এখনো কমেনি। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি আড়াই হাজার থেকে দুই হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রতি কেজি এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। আর ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশ প্রতি হালি ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ইলিশের পাশাপাশি জেলেদের জালে পাঙ্গাশও ধরা পড়ছে। বড় আকারের পাঙ্গাশ প্রতি কেজি এক হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট আকারের পাঙ্গাশ ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের সরবরাহ বাড়লে বাজারে দামের কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

অন্য আড়তদার সেলিম মিয়া বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে ঘাটে মাছ আসতে শুরু করেছে। আগামীকাল মাছের সরবরাহ পর্যবেক্ষণ করলে ইলিশের আমদানি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। কারণ, আগের বছরগুলোতে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর প্রথম দুই দিন মাছের সরবরাহ ভালো থাকলেও পরে তা কমে যেত।

আড়তদার ইব্রাহিম হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে ঘাটে বড় আকারের ইলিশ তুলনামূলক বেশি আসছে। তবে ছোট ইলিশের পরিমাণ কম। প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। অবশ্য পাঙ্গাশ ধরা পড়ায় জেলেদের লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের দুটি অভিযান কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সুফল পাচ্ছেন জেলেরা। ইলিশের পাশাপাশি পাঙ্গাশও পাওয়া যাচ্ছে। পাঙ্গাশের উৎপাদন ও বংশবিস্তার বাড়াতে সরকার কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ করলে এ মাছও ইলিশের মতো জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০