ইসরায়েলে আরব মুসলিম ভোটারদের ভিডিও করার পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর দলের
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইসরায়েলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে আরব মুসলিম ভোটারদের ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভিডিও করার জন্য বিশেষ দল গঠনের পরিকল্পনা করেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়লে এসব ভিডিও ব্যবহার করে ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলার কৌশল নিয়ে দলটির ভেতরে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ।
ইসরায়েলে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি আরব মুসলিম ভোটারদের ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভিডিও ধারণের জন্য বিশেষ দল মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরব অধ্যুষিত এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণ, ভোটারদের উপস্থিতি রেকর্ড করা এবং সরাসরি দলীয় সদর দপ্তরে তথ্য পাঠানোর জন্য কর্মী নিয়োগে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে লিকুদ পার্টি। গত কয়েক সপ্তাহে এসব দল গঠন করা হয়েছে। তাদের ভোটকেন্দ্রের ভেতরে না রেখে বাইরে অবস্থান করানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সরকারি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ এড়ানো যায়।
হারেৎজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিকুদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা নির্বাচনে দলটি বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়লে ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলার একটি প্রচারাভিযান শুরু করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, দলের কিছু কর্মকর্তা তাঁকে এ ধরনের কৌশল নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। নেতানিয়াহু বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো বৈঠকে তাঁর সরাসরি অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত লিকুদ পার্টির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ২০২২ সালের ইসরায়েলি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘২০২২ সাল ছিল বর্তমান নির্বাচনের জন্য একটি পরীক্ষামূলক মহড়া।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভোটকেন্দ্রের বাইরে ধারণ করা ভিডিওগুলো নির্বাচনে কারচুপির প্রমাণ হিসেবে প্রচার করা হতে পারে। তবে এসব দলের ভোটারদের পরিচয় যাচাই করার কোনো আইনি ক্ষমতা নেই। এ ছাড়া সারা দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য আলাদাভাবে একটি বিশেষ নির্বাচন জালিয়াতি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র গঠন করা হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটিতে এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ এবং ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলার সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে প্রতিবেদনটি নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
১৩৮ বার পড়া হয়েছে