সর্বশেষ

রাজনীতি

আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ মন্তব্যের প্রতিবাদ, ক্ষমা চাওয়ার দাবি জামায়াত-শিবিরের

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:৫০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির। বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির। পৃথক বিবৃতিতে সোমবার (২৭ অক্টোবর) সংগঠন দুটি এ প্রতিক্রিয়া জানায়।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির। বক্তব্য প্রত্যাহার এবং জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

সোমবার পৃথক বিবৃতিতে সংগঠন দুটি তাদের অবস্থান তুলে ধরে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। পুলিশ নাগরিকদের সেবক, শাসক নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান হিসেবে আইজিপির দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান তিনি।

বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা এবং বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছিল। সে সময় বিনা বিচারে হত্যা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে মানুষকে তুলে নিয়ে হত্যা, ক্রসফায়ার ও গুমের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জামায়াতের এই নেতা দাবি করেন, আইজিপির বক্তব্যে অতীতের একই ধরনের কর্মকাণ্ড পুনরাবৃত্তির হুমকি ও ইঙ্গিত রয়েছে। তাঁর মতে, এ বক্তব্য সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিএনপির সন্ত্রাসীদের দমন, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং মাদক নির্মূলে ব্যর্থতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চরম অদক্ষতার পরিচয়। নাগরিকদের জীবনযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় জামায়াত।

অন্যদিকে, সরকারের অনুমতি পেলে প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করবে—আইজিপির এমন বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।

সোমবার সংগঠনটির সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রকাশ্য ঘোষণা সংবিধান, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের ওপর গুরুতর আঘাত। অপরাধ দমনের দায়িত্বে থাকা বাহিনীর প্রধান যখন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন, তখন নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ও আইনের শাসন হুমকির মুখে পড়ে।

শিবির নেতারা আরও বলেন, সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের আইনি সুরক্ষা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এসব অধিকার উপেক্ষা করে কারও জীবন কেড়ে নেওয়ার অধিকার পুলিশের নেই।

বিবৃতিতে পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাখ্যারও সমালোচনা করা হয়। শিবির নেতাদের ভাষ্য, আইজিপির বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর বক্তব্যকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁরা এ মনোভাবকে উদ্বেগজনক এবং ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন।

শিবির নেতারা বলেন, কে অপরাধী এবং তাঁর কী শাস্তি হবে, তা নির্ধারণ করার এখতিয়ার আদালতের। পুলিশের দায়িত্ব অপরাধ তদন্ত করা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করা।

আইজিপির বক্তব্য ও পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাখ্যা

এর আগে সোমবার সকালে রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন হয়, সরকার যদি এলাউ করে, তাহলে আমরা সেটাই করব।’

এ বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ব্যাখ্যা দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন আইজিপি।

পুলিশ সদর দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে গিয়ে আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে উল্লেখ করেছেন।

১০৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০