যাদুকাটা নদীর ইজারা নিয়ে অডিও ফাঁস, আলোচনা-সমালোচনা
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:৪৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর বালু-পাথর মহালের ইজারা ও শেয়ার লেনদেন নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আজাদ হোসাইন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিকের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একই সঙ্গে পৌরসভার অর্থ আদায় নিয়েও অসীম চন্দ্র বণিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে অডিওটির সত্যতা এবং অর্থ আদায়সংক্রান্ত অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর বালু-পাথর মহালের ইজারা ও শেয়ার লেনদেন নিয়ে একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অডিওতে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আজাদ হোসাইন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক অসীম চন্দ্র বণিকের কথোপকথন রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ছড়িয়ে পড়া অডিওতে যাদুকাটা নদীর বালু-পাথর মহালের ইজারা ও শেয়ার লেনদেন নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অডিওটির সত্যতা, কথোপকথনের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এবং এ ঘটনায় কোনো সরকারি কর্মকর্তার ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
আজাদ হোসাইন কেন্দ্রীয় বন্দর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলায় আসামি থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, অসীম চন্দ্র বণিক স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বেও রয়েছেন।
অসীম চন্দ্র বণিক পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েকজন ব্যবসায়ীকে ভয়ভীতি দেখানো এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মালিকদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়া অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
অভিযোগকারীদের দাবি, পৌর এলাকার প্রায় ২ হাজার ৮০০ অটোরিকশার প্রতিটি থেকে ৩৫০ টাকা করে আদায় করা হয়ে থাকলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
এ ছাড়া যাদুকাটা, চেলা ও ধোপাজান নদী থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি, অর্থ আদায়ের রসিদ কিংবা সংশ্লিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অসীম চন্দ্র বণিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সরকারি মুঠোফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক অসীম চন্দ্র বণিক ও আজাদ হোসাইনের ছড়িয়ে পড়া অডিওটি তাঁদের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন বলেও জানান।
স্থানীয় ব্যক্তিদের মতে, অডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি যাদুকাটা নদীর বালু-পাথর মহালের ইজারা ও শেয়ার লেনদেনের প্রকৃত অবস্থা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পৌরসভার অর্থ আদায়ের হিসাব নিরীক্ষা করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
১০৯ বার পড়া হয়েছে