সর্বশেষ

সারাদেশ

ভৈরবে ভবন দখল ও লুটপাটের ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

খাইরুল ইসলাম সবুজ, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ
খাইরুল ইসলাম সবুজ, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:১৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভবন ও দোকান দখল, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা না নেওয়ার শর্তে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি, এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে র‌্যাব ক্যাম্পের সামনে একটি দোতলা ভবনের দোকান ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং দখলের ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলা না নেওয়া এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে না যাওয়ার শর্তে এ টাকা নেওয়া হয়। তবে পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা মামলা করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেনি বলে দাবি করেছেন তাঁরা।

গত ৩ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে পৌর শহরের কমলপুর এলাকায় মনির কন্ট্রাক্টরের বাড়ি ও দোকানের জায়গা দখলের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়ার লোকজন সেখানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। এ সময় দুটি দোকান থেকে ১৮ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দোতলা ভবনটিতে ভাঙচুর চালানো হয়।

ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মিয়া ও হাবিবুর রহমানের পক্ষ থেকে থানায় ফোন করা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করার প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভুক্তভোগীদের দাবি, পুলিশের উপস্থিতিতেও লুটপাট চলেছে।

অভিযোগকারী রুবেল মিয়ার দাবি, এ ঘটনায় ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমানকে বিভিন্ন মাধ্যমে নগদ চার লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি ৩০ হাজার টাকা একই দিন বিকেল ৪টা ৩২ মিনিটে ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর ০১৭১২-৬৩৭৪১৮-এ পাঠানো হয়। ওই লেনদেনের পরিচিতি নম্বর হিসেবে ‘ডিজে৩২সিপিবি৪০কিউ’ উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারী।

রুবেল মিয়া বলেন, রাজনীতিবিদ ও পুলিশের সহযোগিতায় ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। এর বিনিময়ে পাঁচ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য, ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ নিয়ে সাত দিন থানায় ঘোরাঘুরি করেও মামলা করতে পারেননি। পরে বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, ভবনটি নিয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। গত ৩ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভবনটি দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালান। তিনি পুলিশকে ফোন করলে ওসি তাঁকে জানান, থানায় পুলিশ নেই; পরে পুলিশ পাঠানো হবে। এ সুযোগে হামলাকারীরা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ভবন ভেঙে জায়গা খালি করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, তাঁর দোকান ভাঙচুর করে ১৮ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। এ ছাড়া বাড়িতে থাকা ভাড়াটিয়ার ঘর থেকে স্বর্ণালংকারও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, বিকাশে টাকা লেনদেনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

১৮২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০