সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে নতুন তথ্য নেই
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:১৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তার সম্পর্কে দেশটির সরকার এখনো নতুন কোনো তথ্য জানায়নি। একই সঙ্গে সৌদি আরবের কারাগারে থাকা প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দির বিষয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোনো তথ্য পায়নি বাংলাদেশ সরকার। দেশটির কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। এমনকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়নি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি আরবের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি আরবের কারাগারে সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। তাঁদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নিহত ১১ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। অন্যদের মরদেহ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলছে। নিহত শাহেদ আহম্মদের পরিবারকে দ্রুত সরকারি অনুদান পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি সামনে আসে সৌদি আরবের গণমাধ্যমে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির মাধ্যমে।
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কল্যাণ উইং গত ১৮ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি গোপনীয় নথিতে এ তথ্য জানায়। নথি অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে প্রকাশিত সংবাদ থেকে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানা যায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, মক্কা অঞ্চলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। অভিযোগ ছিল, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে তাঁরা মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করেছিলেন। তবে দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সৌদি কর্তৃপক্ষ কনস্যুলেটকে সরবরাহ করেনি।
কনস্যুলেটের নথিতে বলা হয়, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একটি তালিকা পাওয়া যায়। সেখানে নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তারের নাম ছিল। তবে তাঁদের শাস্তি সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
তালিকা অনুযায়ী, তাঁরা সৌদি আরবের আল মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। পরদিন সুইটি আক্তারকে ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়।
নজরুল ছিলেন জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি ছিলেন জেদ্দা নারী কারাগারে। তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে ওই তালিকায় কোনো তথ্য ছিল না বলে কনস্যুলেটের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কনস্যুলেটের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের নৈতিকতাসংক্রান্ত মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। এসব সাজা এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মধ্যে রয়েছে।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরবে তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধ বা ব্যভিচারের অভিযোগে আগে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির তাঁদের জানা নেই।
১১৩ বার পড়া হয়েছে