খুলনায় দিনে-দুপুরে সাবরেজিস্ট্রারকে ‘অপহরণ’ ও ফিরে আসা নিয়ে রহস্য
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:২৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
খুলনা সদর কার্যালয়ের সাবরেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর আবার ফিরে আসা নিয়ে চরম ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়েছিল; তবে ফিরে এসে তিনি নিজে তা অস্বীকার করেছেন। এই রহস্যজনক ঘটনা খতিয়ে দেখতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে খুলনা সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সামনে থেকে সাবরেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে কয়েকজন লোক জোর করে তুলে নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে তাকে টেনে-হিঁচড়ে একটি রিকশায় এবং পরবর্তীতে মোটরসাইকেলে তুলে ভৈরব নদের জেলখানা ঘাটের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই আকস্মিক ঘটনায় কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দলিল লেখক ও নকলনবিশরা চিৎকার করে রাস্তায় নেমে আসেন এবং খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে সদর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে, ঠিক তখনই ঘটনার মাত্র আধ ঘণ্টার মাথায় তন্ময় কুমার মণ্ডল নিজে নিজেই অফিসে ফিরে আসেন। তবে ফিরে এসে তিনি অপহরণের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করেন, একটি জরুরি দলিল পর্যালোচনার জন্য তাকে কাছের একটি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, সাবরেজিস্ট্রার দাবি করেছেন তাকে কোনো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়নি এবং তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্নও নেই। তবে কী কারণে তাকে ওভাবে মোটরসাইকেলে তুলে নদীর পাড়ে নিয়ে যাওয়া হলো, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি।
এদিকে ঘটনার পেছনে ভিন্ন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। তাদের দাবি, নগরীর শেখপাড়া এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি ওই চক্রটি এক ঠিকাদারের বাড়ি অবৈধভাবে দখল করেছে এবং এই জমি সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়েই সাবরেজিস্ট্রারকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে। পুরো বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
১১০ বার পড়া হয়েছে