সর্বশেষ

সারাদেশ

সদরপুরের আশ্রয়ণ প্রকল্পে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে বাসিন্দারা

আবিদ জামান, ফরিদপুর
আবিদ জামান, ফরিদপুর

রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:০০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের নতুন বাজারসংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পটি এখন বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলাচলের রাস্তার বেহাল দশা, নিচু জমি ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। বৃষ্টির সময় অনেক ঘরে পানি ঢুকে পড়ছে। ঘরের সামনে ও বাথরুমেও পানি জমে থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রকল্পের বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢেউখালী ইউনিয়নের নতুন বাজারসংলগ্ন ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ৫২টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ ঘরই এখন ফাঁকা পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় অনেক ঘর অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এসব ঘরের চারপাশে জন্মেছে লতাপাতা ও ঝোপঝাড়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে দিন-রাত মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। এ কারণে প্রকল্পে বসবাসকারী পরিবারগুলো নিরাপত্তাহীনতায়ও ভুগছে।

প্রকল্পের বাসিন্দা মিনু আক্তার বলেন, বৃষ্টি হলে পানি বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। একদিন বৃষ্টি হলে ঘরের চারপাশে সাত দিন পর্যন্ত পানি জমে থাকে। তাঁর থাকার ঘরে পানি ঢুকে পড়ে এবং বারান্দায়ও পানি জমে থাকে। এমনকি বাথরুমে পানি জমে থাকায় সেখানে যাওয়া সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে বাইরে যেতে হয়। তাঁর ভাষায়, ‘কী করব, আমাদের তো আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে এখানে থাকছি।’

আরেক বাসিন্দা জিয়াসমিন আক্তার বলেন, কয়েক দিন আগে তাঁর আট মাসের শিশু উঠানের পানিতে পড়ে গিয়েছিল। এতে তিনি অনেক ভয় পেয়েছিলেন।

খাদেজা বেগম বলেন, পানি কমে গেলে দুর্গন্ধ ছড়ায়। রাস্তায় হাঁটুসমান কাদা হয়ে যায়। এর সঙ্গে মশা-মাছির উপদ্রবও রয়েছে।

বাসিন্দারা জানান, প্রকল্পের এমন দুরবস্থার কারণে অধিকাংশ পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। যাদের অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই, তারাই বাধ্য হয়ে সেখানে বসবাস করছেন। পাশাপাশি পরিত্যক্ত ঘরগুলো ঝোপঝাড়ে ঢেকে যাওয়ায় পুরো এলাকা অনেকটা জঙ্গলের মতো হয়ে পড়েছে। সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডার অভিযোগ থাকায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা।

ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, তিনি প্রকল্পের বাসিন্দাদের দুর্দশা দেখেছেন। সেখানে বসবাস করা সত্যিই কঠিন। বিষয়টি ইতিপূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

মিজানুর রহমান বলেন, প্রকল্পটি নির্মাণের আগে মাটি ভরাট করা প্রয়োজন ছিল। এখন মাটি ভরাট করা হলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে প্রকল্পের চারপাশ ঘুরিয়ে পাকা ড্রেন নির্মাণ করে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার কথা ভাবা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্রয়হীন মানুষকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হলেও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় সেটিই এখন বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ঘরগুলো ঝোপঝাড়ে ঢেকে যাওয়ায় প্রকল্পের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি মাদকসেবীদের আড্ডার অভিযোগ থাকায় সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি সভায় আছেন বলে জানান। পরে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।

১০৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০