সর্বশেষ

জাতীয়

শুল্কমুক্ত মদ রাখায় সালমানের শ্বশুরের ৪ গুদাম সিলগালা

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:৩৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের মালিকানাধীন টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের চারটি গুদাম সিলগালা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ গুলশানের প্রতিষ্ঠানটিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে গুদামগুলো সিলগালা করা হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের গুদামে প্রাথমিকভাবে গুরুতর অসংগতি পাওয়া গেছে। অধিকতর যাচাই ও তদন্তের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির চারটি গুদামই সিলগালা করা হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অভিযান চলে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, টস বন্ড একটি কূটনৈতিক ওয়্যারহাউস। প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহ করে থাকে। তবে শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে কয়েক মাস ধরে অনুসন্ধান চলছিল।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত বা ঘোষিত গুদামের সংখ্যা দুটি। অভিযানে সেখানে মোট চারটি গুদামে পণ্য মজুত রাখার তথ্য পাওয়া যায়। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য অননুমোদিত গুদামে স্থানান্তর বা অপসারণ ঠেকাতে এবং তদন্তের স্বার্থে চারটি গুদামই সিলগালা করা হয়েছে।

এদিকে নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যবসা ও বিদেশে নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো। এনবিআরের সিআইসি ও আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট কানাডা থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কিছু লেনদেন এবং সেখানে অন্তত চারটি কোম্পানির মালিকানার বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কানাডা থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার এই কূটনৈতিক বন্ডেড ওয়্যারহাউসের পরিচালক হিসেবে নুর ইসলাম, তাঁর স্ত্রী শীলা ইসলাম ও মেয়ে তাসনিম ইসলামের নাম রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।

সিআইসি ও আয়কর গোয়েন্দা ইউনিটের সংগৃহীত নথিতে ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত নুর ইসলামের পরিবারের আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ওই সময়ে ১৬৩টি আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য। এর মধ্যে এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স আনার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে তাঁরা জানান।

সিআইসি, আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট ও এনবিআরের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এসব তথ্যের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, নুর ইসলামের ব্যবসা, বন্ডেড ওয়্যারহাউস এবং করসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আগে থেকেই অনুসন্ধান চলছিল।

সিআইসির এক কর্মকর্তা বলেন, সালমান মুক্তাদিরের সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে এই অভিযান সম্পৃক্ত নয়। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা আগে থেকেই নুর ইসলাম ও তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে কাজ করছিল।

আয়কর গোয়েন্দা ইউনিটের এক কর্মকর্তা বলেন, নুর ইসলামের বিভিন্ন ব্যবসার পাশাপাশি বন্ডেড ওয়্যারহাউস রয়েছে। তাঁর ও পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিদেশি নাগরিকত্বের তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা শুরু হয়। এর সঙ্গে আয়কর, ভ্যাট ও আমদানি শুল্কের বিষয়ও থাকায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে সালমান মুক্তাদির হামলার জন্য বিএনপির চাঁদাবাজিকে দায়ী করেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে নিয়েও মন্তব্য করেন। পরে তিনি ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ থেকে সরে আসেন।

এ ঘটনায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া যে মামলা করেন, তাতে জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার জেরে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমানও রয়েছেন। এর মধ্যে বুধবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

এদিকে টস বন্ডের গুদাম সিলগালার ঘটনায় তদন্ত ও বিস্তারিত যাচাই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

১৭১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০