কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, চাপে বাংলাদেশসহ এশিয়ার ক্রেতারা
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:০০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশের ক্রেতাদের আগামী নভেম্বর এবং ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করতে পারবে না কাতার এনার্জি। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানটি অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ বন্ধ থাকার নোটিশের মেয়াদ বাড়ানোর কথা জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে কাতারের এলএনজি রপ্তানিতে। এর ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশের ক্রেতাকে নির্ধারিত সময়ে এলএনজি সরবরাহ করতে পারছে না কাতার এনার্জি।
কাতার এনার্জি সোমবার তাদের অনিবার্য পরিস্থিতির নোটিশের মেয়াদ বাড়িয়ে জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর এবং ডিসেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত এসব ক্রেতাকে এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কারণে গত এপ্রিল থেকেই কাতারের এলএনজি সরবরাহে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, এ সংঘাতের কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি ৯৬ শতাংশ কমে গেছে। গত বছরের একই সময়ে কাতার ৫০৯টি এলএনজি কার্গো পাঠিয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের আগস্টের শেষ পর্যন্ত দেশটি মাত্র ১৮টি কার্গো পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।
কাতার এনার্জির আরেক ক্রেতা ইতালির প্রতিষ্ঠান এডিসন জানিয়েছে, তাদের জন্য আরও ছয়টি এলএনজি কার্গো বাতিল করেছে কাতার এনার্জি। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহ না পাওয়া চালানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫টিতে।
ইতালির মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করে এডিসন। সরবরাহ ঘাটতি পূরণে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভর করছে। কাতার এনার্জির সঙ্গে এডিসনের ২০০৯ সাল থেকে ২৫ বছর মেয়াদি একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে।
এদিকে সামনে শীত মৌসুম। এ সময় এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সীমিত বৈশ্বিক প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে গ্যাসের দামও উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে জার্মানিসহ একাধিক দেশ শীতের আগে গ্যাসের মজুত পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে কাতার এনার্জি এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র: রয়টার্স
১০৬ বার পড়া হয়েছে