সর্বশেষ

সারাদেশ

কলাপাড়ায় খেয়াঘাট আছে, ঘাটে যাওয়ার পথ নেই: জোয়ার-ভাটায় ভোগান্তি

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মাঝের খেয়াঘাটে যাতায়াতের জন্য নৌকা আছে, ঘাটও আছে; নেই শুধু ঘাটে পৌঁছানোর উপযোগী সড়ক। জোয়ারে সংযোগ পথ পানিতে ডুবে যায়, আর ভাটায় জমে থাকে হাঁটুসমান কাদা। ফলে কয়েক গ্রামের শত শত মানুষকে কাদা মাড়িয়ে খেয়ায় উঠতে হয়। কখনো আবার অন্যের বাড়ির ওপর দিয়ে ঘুরে ঘাটে পৌঁছাতে হয়।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মাঝের খেয়াঘাট ব্যবহারকারী মানুষ প্রায় সাত মাস ধরে এমন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের মিঠাগঞ্জ গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই খেয়াঘাট। প্রতিদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রোগী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ ঘাট দিয়ে যাতায়াত করেন। তবে ঘাটের সংযোগ সড়কটি নিচু হওয়ায় বর্ষা মৌসুম ও জোয়ারের সময় ভোগান্তি চরমে ওঠে।

স্থানীয়রা জানান, জোয়ারের পানি বাড়লে ঘাটের সংযোগ পথ পানিতে তলিয়ে যায়। তখন পায়ে হেঁটে ওই পথে চলাচলের সুযোগ থাকে না। আবার পানি নেমে গেলে সড়কজুড়ে জমে থাকে কাদা। কোথাও কোথাও সেই কাদা হাঁটুসমান হয়ে যায়। এতে ঘাটে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকে বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে কিংবা অন্যের বাড়ির ওপর দিয়ে ঘুরে ঘাটে যান।

এটি টিয়াখালী ইউনিয়নের অংশের খেয়াঘাটের চিত্র। ঘাটের অপর প্রান্ত মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের অংশ তুলনামূলক ভালো হলেও বৃষ্টির সময় সেখানেও যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ভাটার সময় কাদা মাড়িয়ে খেয়ায় ওঠা যাত্রীদের জন্য কঠিন হয়ে যায়।

টিয়াখালী ইউনিয়নের খেয়াঘাট এলাকার দোকানদার আব্দুর রহমান সিকদার বলেন, ‘জোয়ারের সময় এই রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারে না। ছোটবেলা থেকেই রাস্তার এমন অবস্থা দেখে আসছি। অথচ শিক্ষক, শিক্ষার্থীরাও এই পথ ব্যবহার করেন। রাস্তা উঁচু করে দিলে সমস্যার সমাধান হবে।’

মিঠাগঞ্জ বড় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. নেছার উদ্দিন বলেন, জোয়ারের সময় খেয়া পার হতে গেলে কাপড় অনেক ওপরে তুলতে হয়। এতে নারীদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। আর ভাটার সময় হাঁটুসমান কাদা পেরিয়ে ঘাটে উঠতে হয়।

খেয়াযাত্রী মো. হানিফ সিকদার বলেন, দুই পাড়েই সমস্যা রয়েছে। তবে উত্তর পাড়ের অবস্থা বেশি খারাপ। বেড়িবাঁধ থেকে খেয়াঘাট পর্যন্ত রাস্তাটি উঁচু করে নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে।

খেয়াঘাটের মাঝি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জোয়ারে ঘাটে আসার পথ পানিতে ভরে যায়। আর ভাটার সময় সেখানে হাঁটুসমান কাদা থাকে। এতে মানুষজন ঠিকমতো চলাচল করতে পারেন না। অনেক সময় যাত্রী না থাকায় তাঁকে সারাদিন ঘাটে বসে থাকতে হয়।

মিঠাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দীপা সিকদার বলেন, তিনি তিন বছর ধরে সেখানে চাকরি করছেন। কলাপাড়া শহর থেকে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা তাঁর জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও রোগীদের দুর্ভোগ বেশি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কলাপাড়া শহর থেকে আসেন। এ ছাড়া এলাকায় দুটি মাদ্রাসা ও একটি উচ্চবিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষককেও এই খেয়া ব্যবহার করতে হয়। তাঁর মতে, সংযোগ সড়ক উঁচু করা ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদনও করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, জোয়ারে পানি বেড়ে গেলে খেয়াঘাটের সংযোগ পথ তলিয়ে যায়, আবার ভাটার সময় কাদায় ভরে যায়। সংযোগ সড়কটি মাটি দিয়ে উঁচু করা দরকার। ফান্ডিংয়ের জন্য বিষয়টি উপজেলা পরিষদের সামনের মাসিক সভায় উত্থাপন করবেন তিনি।

১৬৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০