গাজার ধ্বংসস্তূপে মরদেহের প্রতি অসম্মান দেখানো হচ্ছে: জাতিসংঘ
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:৪১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মৃতদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। তাঁর আশঙ্কা, এভাবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ ও মানবদেহের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ভলকার তুর্ক বলেন, গাজার যেসব এলাকায় এখনো ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন রয়েছে, সেসব এলাকায় বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলছে। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মৃতদের মরদেহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তুর্ক জানান, ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া বিভিন্ন স্থানে পুরো পরিবারের মরদেহ ও মানবদেহের অংশ পাওয়া যাচ্ছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে থাকা পরিবারগুলো এখন তাদের সবচেয়ে খারাপ আশঙ্কার সত্যতা দেখতে পাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিষয়টিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক হিসেবে উল্লেখ করেন জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়েছে। এসব ধ্বংসাবশেষ সরাতে প্রায় সাত বছর সময় লাগতে পারে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের নিচ থেকে ৬৩০টির বেশি মরদেহ ও মানবদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ধারণা, এখনো ৮ হাজারের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।
তুর্ক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা মোট সংখ্যার সামান্য অংশ হতে পারে। কারণ গাজার বড় একটি অংশ ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ভবন ভাঙা ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ পরিচালনা নিয়েও উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। তাঁর মতে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক বিস্ফোরক ব্যবহারের কারণে বেসামরিক মানুষ ও যোদ্ধাদের মধ্যে কার্যকরভাবে পার্থক্য করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তুর্ক বলেন, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের আশঙ্কা নতুন করে সামনে এনেছে। আবাসিক ভবনে হামলায় শিশু, নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ একই পরিবারের বহু সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের নিয়ম মানা হয়েছে কি না, তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর উত্তর গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ১০০ জনের মরদেহ দাফন করেন ফিলিস্তিনিরা। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ জনই শিশু ছিল।
১২৬ বার পড়া হয়েছে