বয়স জালিয়াতি করে এক যুগ ধরে চাকরি করছে গ্রাম পুলিশ!
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ২:১৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরগুনার তালতলীতে বয়স জালিয়াতি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের মাধ্যমে এক যুগ ধরে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন এক গ্রাম পুলিশ। একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
অভিযুক্ত ওই গ্রাম পুলিশের নাম মোঃ জাফর। তিনি বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হেলেঞ্চাবাড়িয়া গ্রামে কর্মরত রয়েছেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গ্রাম পুলিশ পদে নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর হলেও, ২০১৪ সালে নিয়োগের সময় তাঁর প্রকৃত বয়স ছিল প্রায় ৩৬ বছর। চাকুরির নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করার পরও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তিনি এই সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০০৮ সালের ভোটার তালিকায় জাফরের জন্ম তারিখ ছিল ২৭ মে ১৯৭৮ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল পঞ্চম শ্রেণি। কিন্তু চাকুরিতে যোগদানের দুই বছর পর, ২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নিজের বয়স বৈধ করার লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম ও শিক্ষাগত যোগ্যতা অপরিবর্তিত রেখে জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে ৪ মে ১৯৮৪ সাল করে নেন। অথচ তাঁর ছোট ভাই মোঃ মাইনুদ্দিনের এনআইডিতে জন্ম তারিখ ১ মার্চ ১৯৮২ সাল অপরিবর্তিত রয়েছে।
এ ঘটনায় বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী নোমান হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বয়স জালিয়াতি ও তথ্য গোপন করে জাফর অবৈধভাবে চাকরিটি পেয়েছেন। তিনি নিজে যোগ্য প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও বঞ্চিত হয়েছেন এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। নোমান অবিলম্বে তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তের চাকরিচ্যুতি ও আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত মোঃ জাফর দাবি করেন, তিনি নিয়ম মেনেই চাকরি করছেন এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলছেন। তাদের পরিবারের সবারই বয়স পরিবর্তন করা আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার জানিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১০৬ বার পড়া হয়েছে