সর্বশেষ

সারাদেশ

শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের মারধরের পর বিএনপি নেতার পাল্টা অভিযোগ

মেহেদী হাসান, শরীয়তপুর
মেহেদী হাসান, শরীয়তপুর

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ২:২৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
শরীয়তপুরে কর্মরত তিন সাংবাদিককে মারধর ও হুমকি দেওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের পর এবার উল্টো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই চাঁদাবাজির পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা। হামলার শিকার সাংবাদিকদের অভিযোগটি পুলিশ এখনো মামলা হিসেবে রেকর্ড না করলেও বিএনপি নেতার অভিযোগ তদন্ত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ, যা নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শরীয়তপুর প্রেস ক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের বিক্ষোভের পর থেকেই এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় জেলা প্রশাসককে অবরুদ্ধ করার অভিযোগে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয় বিএনপির একটি অংশ। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশ থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিককে মারধর করা হয়।

হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন নিউজ টোয়েন্টিফোর ও জাগো নিউজের বিধান মজুমদার অনি, দ্য ডেইলি স্টারের জাহিদ হাসান রনি এবং দৈনিক এদিনের বরকত উল্লাহ। তাদের অভিযোগ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমানের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া সাংবাদিকদের তালিকা করে দেখে নেওয়ার হুমকির একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এই ঘটনার পর হামলার শিকার সাংবাদিক বরকত মোল্লা পালং মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পুলিশ তা মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করেনি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। উল্টো একই থানায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আরিফুজ্জামান মোল্লা।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, সাংবাদিকদের মারধর ও চাঁদাবাজি—দুই পক্ষের দুটি অভিযোগই তারা পেয়েছেন। অভিযোগ দুটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের সত্যতা সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ। তারা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সিরাজুল হক মোল্লা জানান, প্রশাসনের সঙ্গে অসংলগ্ন আচরণের প্রতিবাদেই সাধারণ জনগণ বিক্ষোভ করেছে। কোনো নেতার অসদাচরণের সত্যতা পাওয়া গেলে দলগতভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৫৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০